জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার সদর এলাকায় এই সংঘাতের ফলে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ নিশ্চিত করেছেন যে, বিকেল সোয়া ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করলেও তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বর্তমানে দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি দল স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী এবং অন্য দলটি জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারী। সম্প্রতি ছাত্রদলের আংশিক কমিটি থেকে সংসদ সদস্যের অনুসারীদের বাদ দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ৩টার পর থেকে জেলা নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার অনুসারীরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হকের নেতৃত্বে আড়াইবাড়ি দরবার শরীফের মাঠ ও কদমতলী এলাকায় একত্রিত হতে থাকেন। অন্যদিকে, গত বুধবার ছাত্রদল কমিটির বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে আহত হওয়ার প্রতিবাদে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা কসবা পুরাতন বাজার এলাকায় জমায়েত হন।

বিকেলে শরিফুল হকের নেতৃত্বে আড়াইবাড়ি দরবার শরীফের মাঠ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা কদমতলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে আলোচনা সভা শুরু হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা বিজনা নদীর সেতুর পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ওই মিছিল প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। সেতুর নিচে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কদমতলী এলাকায়।

উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, যা দ্রুতই সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই লড়াইয়ে ককটেল বিস্ফোরণ এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে পুরো পৌর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ পদক্ষেপ নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে এই সংঘর্ষের বিষয়ে কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি, কারণ সংঘর্ষের সময় তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত ছিলেন। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদ।