চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে ধনাগোদা শাখা নদীর উপর নির্মিত লুধুয়া সেতুটি বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। গত জানুয়ারিতে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও এর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠের নড়বড়ে সিঁড়ি বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতুতে উঠছেন। গতকাল রোববার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর উভয় পাশে কোনো সংযোগ পথ নির্মিত হয়নি। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ ভাঙাচোরা বাঁশ এবং কাঠের মই ব্যবহার করে সেতুতে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন। নদী পারাপারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও সেখানে চোখে পড়েনি। এই দৃশ্য প্রতিদিনের, যা স্থানীয়দের জন্য নিয়মিত দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অব্যবস্থার কারণে সেতুর আশপাশের লুধুয়া, নান্দরকান্দি, শাহাবাজকান্দি, ফরিদকান্দি, পুরকান্দি, ঘোড়াকান্দি, ভাটিরসুলপুর, সুজাতপুর, উত্তর ফতেহপুর ও উত্তর ঠেটালিয়া—এই দশটি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। লুধুয়া স্কুল ও কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. জানিবুল হক জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় আট মাস ধরে সেতুটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ওই অঞ্চলের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রতিদিন নড়বড়ে মই বেয়ে সেতুতে উঠছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন অনেকে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কার্যালয়কে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় শিক্ষার্থী রুদ্র চন্দ্রের বর্ণনায় উঠে আসে দৈনন্দিন যন্ত্রণার চিত্র। তিনি বলেন, প্রতিদিন মই বেয়ে সেতুতে উঠে স্কুলে যেতে হয়। মইতে পা রাখলেই ঝাঁকুনি লাগে, যা অত্যন্ত ভয়ের ও কষ্টের কারণ। তিনি জানান, সেতুতে ওঠার সময় নিচে পড়ে গিয়ে কয়েকবার আঘাত পেয়েছেন। এমনকি একজনের হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই পথচলা কেবল অসুবিধাজনক নয়, বরং জীবনঝুঁকিপূর্ণও বটে।
প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে উপজেলার লুধুয়া গ্রামে ধনাগোদা শাখা নদীর উপর ৪১ ফুট দীর্ঘ ও ২২ ফুট চওড়া সেতু এবং এর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ‘মেসার্স সুন্দরবন’ নামের একটি স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। যদিও গত জানুয়ারিতে সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন হয়, তবু সংযোগ সড়কের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় আট মাস অতিক্রম করে গেছে।
সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার রিপন পাটোয়ারী গতকাল মুঠোফোনে জানান, জায়গা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই সেতুর পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে। এই কারণে সেতুটি চালু করা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, দায়িত্বহীনতার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার গত শনিবার মুঠোফোনে বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে জায়গা অধিগ্রহণের প্রচেষ্টাও চলমান রয়েছে।




