তরুণদের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং নতুন চিন্তাভাবনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হলো চার দিনব্যাপী জাতীয় পরিবেশ উৎসব ‘গ্রিন জেনেসিস ২০২৬’। পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলা। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আউটরিচ টিমের তত্ত্বাবধানে গত ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই উৎসব চলে, যেখানে দেশব্যাপী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এই উৎসবে মোট তিন হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন এবং ১২টি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে। প্রায় ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৮৮টি ক্লাবের পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫০ জন প্রতিনিধি এই আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। উৎসবের কর্মসূচিগুলো ছিল বৈচিত্র্যময়, যার মধ্যে ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্ট, কর্মশালা, বিশেষ আলোচনা এবং প্রদর্শনী।

উৎসবের প্রথম দিন শুরু হয় ‘আ লেটার টু নেচার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির প্রতি তাঁদের আবেগ, উদ্বেগ এবং প্রত্যাশা চিঠির মাধ্যমে ব্যক্ত করেন। দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্লাইমেট সায়েন্স অলিম্পিয়াড’ এবং ‘ক্লাইমেট ওরেটরি’। অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যাচাই করা হয় এবং ওরেটরি পর্বে তাৎক্ষণিক বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ফুটিয়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ‘ইকো ডিকোড’ প্রতিযোগিতায় মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অঝরা ইসলাম ও আবদুল্লাহ ইসলামের দল ‘গো বিগ গ্রিনস’ চ্যাম্পিয়ন হয়।

তৃতীয় দিনে ‘গ্রিন জেনেসিস ইনস্পিরেশন’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআর-এর পরিচালক গোলাম রব্বানী। এছাড়া ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট লাইফের প্রধান তাহসিনা রহমান শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের বিকাশ নিয়ে আলোচনা করেন। এদিন আরও আয়োজিত হয় এনভায়রনমেন্টাল প্রজেক্ট ডিসপ্লে, পোস্টার ডিজাইন, ওয়াল ম্যাগাজিন, ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, এআই আর্ট এবং গ্রিন জার্নালিজমের মতো বিভিন্ন সৃজনশীল সেগমেন্ট। অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই সমাধানের বিভিন্ন বাস্তবসম্মত মডেল উপস্থাপন করেন।

পুরো উৎসব চলাকালীন পাঁচটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সিথ্রিইআর-এর গোলাম রব্বানী ও শারমিন নাহার, অফিস অব কমিউনিকেশনস-এর ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, প্রথম আলোর ডিজিটাল কনটেন্ট লিড খায়রুল বাবুই এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী সৃজন বণিক দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। এসব কর্মশালায় পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা, সাংবাদিকতা এবং জনসচেতনতা তৈরির কৌশল শেখানো হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় তরুণরাই হবে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড এবং সমাপনী বক্তব্য দেন আউটরিচ টিমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দীপ্তি সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।

এই জাতীয় উৎসবের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং ইয়ুথ ফর আ গ্রিন আর্থ (ওয়াইজিই)। এছাড়া লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, এনভায়রনমেন্টাল ক্লাব, কমিউনিটি সার্ভিস ক্লাব ও ন্যাচারাল সায়েন্স ক্লাব সহ-আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এসিআই মোটরস এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে ছিল প্রথম আলো ডটকম।