ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার 'ব্যালন ডি’অর' জয়ের প্রবল দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাঁর গোল করার ক্ষুধা আরও বেড়েছে, যা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে স্পষ্ট। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে ৬১টি এবং জাতীয় দলের হয়ে ১২টি গোল করে মোট ৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ২০১১-১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির ৮২ গোলের পর একক মৌসুমে এটিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ের পাশাপাশি গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পৌঁছে দিতে ৬টি গোল করেছেন তিনি।

আগামী ২৬ অক্টোবর এই পুরস্কারের চূড়ান্ত ঘোষণা হবে। তবে কেইনের পথ সহজ নয়; তাঁর সামনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লামিনে ইয়ামাল। এমবাপ্পে বিশ্বকাপে গোল রেকর্ডের পাশাপাশি গোল্ডেন বুট জিতেছেন এবং নিজেকে সেরা হিসেবে দাবি করছেন। অন্যদিকে, ইয়ামাল বিশ্বকাপ ও লা লিগা জয়ের পাশাপাশি ২৪ গোল এবং ১৮টি অ্যাসিস্ট করে নিজের দাবি জোরালো করেছেন। এই প্রতিযোগিতার মুখে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম 'মার্কা'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেইন বিনয়ের সাথে জানান, তিনি নিজেকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না। তবে তাঁর মতে, ৭৩টি গোলই তাঁর যোগ্যতার প্রমাণ দেয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন ভোটদাতাদের হাতে।

এবারের ব্যালন ডি’অর আসরটি কেইনের জন্য আরও বিশেষ, কারণ প্রথমবারের মতো এটি ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিজের শহরের মাটিতে এই আয়োজন সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কেইন জানান, এটি তাঁর জন্য এক অদ্ভুত অনুভূতি এবং অনেকের প্রত্যাশা তাঁকে উৎসাহিত করেছে। একই সঙ্গে গোল করার রোমাঞ্চ সম্পর্কে তিনি বলেন, গোল করার পর যে স্বস্তি ও উত্তেজনা তৈরি হয়, অবসর নেওয়ার পর তিনি সেটি সবচেয়ে বেশি মিস করবেন।

৩৩ বছর বয়সে এসেও যেভাবে তাঁর পারফরম্যান্স উন্নত হচ্ছে, তার রহস্য হিসেবে কেইন তাঁর ব্যক্তিগত ক্রীড়া চিকিৎসক আলেহান্দ্রো এলোরিয়াগার কথা উল্লেখ করেছেন। গত সাড়ে ছয় বছর ধরে তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টার ফলেই কেইন এই বয়সেও শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে পেরেছেন এবং ক্রমাগত উন্নতি করেছেন। কেইনের বিশ্বাস, তাঁর এই ধারাবাহিকতা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং পর্দার আড়ালে কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক চিকিৎসার ফল। এখন দেখার বিষয়, গোল machine কেইন শেষ পর্যন্ত সোনালী বলটি জিততে পারেন কি না।