কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্যামুয়েল স্টারবার্গ ও তাঁর সহযোগীরা জীববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছেন। এসচেরিচিয়া কোলাই নামক ব্যাকটেরিয়ার ডিআরটি৩ নামক একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গবেষণা করতে গিয়ে তাঁরা দেখিয়েছেন যে, প্রোটিনের নিজস্ব অ্যামিনো অ্যাসিড সরাসরি ডিএনএ তৈরির ছাঁচ হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি প্রচলিত নিয়মের সম্পূর্ণ উল্টো একটি ঘটনা, যা বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ব্যাকটেরিয়া মূলত ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষার জন্যই এই অদ্ভুত পদ্ধতি ব্যবহার করে। যখন কোনো ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে, তখন এই স্বয়ংসম্পূর্ণ দ্বৈত ডিএনএ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে কোষের ভেতরে বিশেষ সংকেত তৈরি হয়, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি সাময়িকভাবে থামিয়ে দেয়। এতে ভাইরাসটি আর নিজের বংশবিস্তার করতে পারে না এবং পুরো ব্যাকটেরিয়া উপনিবেশটি ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যায়।

এই ব্যবস্থায় দুটি ভিন্ন রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ এনজাইম কাজ করে, যা পরস্পর পরিপূরক দুটি ডিএনএ স্ট্র্যান্ড তৈরি করে। এদের মধ্যে একটি এনজাইম প্রচলিত নিয়ম মেনে আরএনএকে টেমপ্লেট হিসেবে ব্যবহার করে ডিএনএ তৈরি করে। কিন্তু দ্বিতীয় এনজাইমকে ডিআরটি৩বি বলা হয়। এটি কোনো ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড বা জিনগত টেমপ্লেট ছাড়াই ডিএনএ তৈরি করতে সক্ষম। এই বৈশিষ্ট্যই এটিকে জীববিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছে।

সাধারণত কোষে জিনগত তথ্যের আদান-প্রদান কিংবা ডিএনএ কপি করতে ডিএনএ কিংবা আরএনকে টেমপ্লেট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গবেষকরা ক্রায়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপির মাধ্যমে দেখেছেন, ডিআরটি৩বি প্রোটিনের সক্রিয় অংশের ঠিক পাশে থাকা দুটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড নিখুঁতভাবে ডিএনএর বেজ বা উপাদানগুলোকে যুক্ত করছে। প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিডের গঠন সরাসরি ডিএনএর চেইনে রূপ নিচ্ছে, যা প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি উল্টে দিচ্ছে।

গবেষকদের ধারণা, ব্যাকটেরিয়ার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভেতরে এ ধরনের আরও বহু অজানা ও চমকপ্রদ অণুজীববিজ্ঞান লুকিয়ে থাকতে পারে। এই আবিষ্কার শুধু মৌলিক জীববিজ্ঞানকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছে না, বরং অণুজীবের প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে ভবিষ্যতের গবেষণার পথও প্রশস্ত করছে। প্রতিবেদনটি সায়েন্স অ্যালার্ট থেকে সংগৃহীত।