বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতার নতুন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার প্রকাশিত সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের পে-স্কেল গেজেটে এই বিশেষ সুবিধার কথা জানানো হয়। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। অর্থাৎ, যদি কোনো কর্মচারীর দুই সন্তানই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হয়, তবে তিনি প্রতি মাসে মোট ৬ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। তবে দুইয়ের অধিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলেও ভাতার পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই সন্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এই টাকা সরাসরি সন্তানের বাবা বা মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে।
গেজেটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই বিশেষ ভাতার পাশাপাশি অন্য কোনো সরকারি ভাতা গ্রহণ করা যাবে না; অর্থাৎ একই উদ্দেশ্যে একাধিক ভাতা নেওয়ার সুযোগ নেই। নতুন এই বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেলের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখেরও বেশি পেনশনভোগী বিভিন্ন সুবিধা লাভ করবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কতজনের সন্তান প্রতিবন্ধী সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে এই তথ্যের ঘাটতি মেটাতে অর্থ বিভাগের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস)-এ এই বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সন্তানদের প্রতিবন্ধী কি না, তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী যে মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আছেন, সেই মন্ত্রণালয়ই যাবতীয় যাচাইবাছাই সম্পন্ন করবে। যতক্ষণ ওই সরকারি কর্মচারী চাকরিতে বহাল থাকবেন, ততক্ষণই এই ভাতার সুবিধা বজায় থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য এই ভাতার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হচ্ছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই আর্থিক সহায়তার ফলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, থেরাপি এবং দৈনন্দিন পরিচর্যার খরচ মেটাতে পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে। যদিও এই টাকা সব খরচের পুরোটা মেটাবে না, তবে তা একটি বড় অংশ পূরণে সহায়ক হবে। এছাড়া, ভাতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হিসেবে স্বীকৃতির জন্য কী ধরনের সনদ প্রয়োজন এবং আবেদনের সঠিক প্রক্রিয়া কী হবে—সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি মোতাবেক নির্ধারিত করা হবে।




