বিরোধীদলের অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণেই অনেকে ডিসেম্বরের দিকে আসার পরিকল্পনা করছেন বলে মনে করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই বিষয়ে তাঁর অস্বস্তি প্রকাশ করেন। জেলা ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এবং লাইন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ এর যৌথ উদ্যোগে এই স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।
মন্ত্রী জানান, সরকার যেদিন শপথ গ্রহণ করে, সেদিন বিরোধীদল উপস্থিত ছিল না এবং প্রথম দিন থেকেই তারা সরকারি দলের প্রতি সব ধরনের অসহযোগিতা করে চলেছে। তাঁর মতে, বিরোধীদলের এই নেতিবাচক অবস্থান এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচির ফলেই অনেকে সুযোগ পেয়ে ডিসেম্বরে আসতে চাইছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদল যদি এই সুযোগ তৈরি না করত, তবে এমন পরিস্থিতি হতো না।
বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিরোধীদল সংসদের ভেতরে কথা একরকম বললেও বাইরে তাদের আচরণ ভিন্ন। তিনি অভিযোগ করেন, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছে, তারা এখন বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে পালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে বিরোধীদল ঢাকা থেকে রংপুর বা চট্টগ্রামে গিয়ে গ্যাস ও তেলের জন্য আন্দোলন করছে। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
বিরোধীদলের রোড মার্চ ও লংমার্চের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের কর্মসূচিতে প্রচুর তেল খরচ হচ্ছে এবং রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও অসুস্থ রোগীরা চরম কষ্ট পোহাচ্ছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিরোধীদল সংসদে সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বললেও বাস্তবে তাদের কাজের নমুনা এর বিপরীত।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেন।




