ভ্রমণে বের হওয়ার সময় অনেক দম্পতির অভ্যাসের মধ্যে থাকে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। কেউ তাড়াহুড়ো করে বিমানবন্দরে পৌঁছান, কেউ আবার দেরিতে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কেউ শপিংয়ে মেতে ওঠেন, আবার কেউ চান নীরবে অপেক্ষা করতে। এই ভিন্ন পছন্দের কারণে প্রায়ই শুরু হয়ে যায় ছোটখাটো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিমানবন্দরে কিছুটা সময় ইচ্ছাকৃতভাবে আলাদা থাকার যে কৌশল, সেটিই এখন 'এয়ারপোর্ট ডিভোর্স' নামে পরিচিত। এটি আসলে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি হালকা উপায়, যা বিচ্ছেদ নয় বরং একটি মজার বিরতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ধারণাটির প্রচলন ঘটে ২০২৫ সালের আগস্টে, যখন ব্রিটিশ সাংবাদিক হিউ অলিভার তাঁর 'সানডে টাইমস' কলামে এই কৌশলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে যাওয়ার পর দম্পতিদের কিছু সময় আলাদা থাকার পরামর্শ দেন, পরে গেটে বা উড়ানে আবার দেখা করার শর্তে। অলিভার মজা করে একে 'সুখী সম্পর্কের গোপন রহস্য' হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর লেখাটি পাঠকদের মাঝে দ্রুত সাড়া জাগায়, এবং কয়েকদিনের মধ্যেই 'আফার' ম্যাগাজিন 'হোয়াট ইজ এয়ারপোর্ট ডিভোর্স অ্যান্ড শুড ইউ ট্রাই ইট?' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ধারণাটির মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো ব্যাখ্যা করা হয়।

ভ্রমণ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলটি বেশ কার্যকর। কারণ বিমানবন্দরের পরিবেশে মানুষের উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ২০২৩ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ বিমানবন্দরে পৌঁছে তাদের আচরণে পরিবর্তন অনুভব করেন। অলিভার তাঁর লেখায় এই জরিপের তথ্যও তুলে ধরেন। 'এয়ারপোর্ট ডিভোর্স' অনুসরণ করলে প্রত্যেকে নিজের পছন্দমতো সময় কাটাতে পারে, ফলে সঙ্গীর অভ্যাস নিয়ে অযথা দ্বন্দ্ব এড়ানো সম্ভব হয়।

মার্কিন টেলিভিশন তারকা কেলি রিপা ও তাঁর স্বামী মার্ক কনসুয়েলোস ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাদের অনুষ্ঠান 'লাইভ উইথ কেলি অ্যান্ড মার্ক'-এ এই বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা জানান, ভ্রমণের ধরনে তাদের মিল নেই—মার্ক আগে পৌঁছাতে পছন্দ করেন, আর রিপা দেরিতে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাই তারা নিয়মিত 'এয়ারপোর্ট ডিভোর্স' অনুশীলন করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সবসময় পাশাপাশি থাকাই সম্পর্কের জন্য জরুরি নয়; কখনো কখনো সামান্য দূরত্ব সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। 'এয়ারপোর্ট ডিভোর্স' নামে 'ডিভোর্স' শব্দটি থাকলেও এটি কোনোভাবেই বিচ্ছেদের আহ্বান নয়। বরং ভ্রমণের চাপ কমিয়ে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার একটি সহজ উপায়। চেক-ইন থেকে প্লেন ওঠার সময়টুকু আলাদা কাটালে দুজনের মধ্যে নতুন করে ঘনিষ্ঠতাও তৈরি হতে পারে।