দেশের চলমান বিদ্যুৎ–সংকট কাটাতে স্বল্প মেয়াদে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। তাঁর মতে, বর্তমানে বন্ধ থাকা ফার্নেস তেলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করা গেলে সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মালিকদের পাওনা পরিশোধে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে, যাতে এসব কেন্দ্র উৎপাদনে ফিরতে পারে।

বিদ্যুৎ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে তিনি শিল্পকারখানায় পালাভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, রাত ১২টার পর বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তাই এলাকা বা শিল্পভেদে পালা পদ্ধতি চালু করলে সরবরাহে ভারসাম্য আনা সম্ভব। যে সব কারখানা রাতে চালানোর সুযোগ রয়েছে, সেগুলো দিনে বন্ধ রাখার পাশাপাশি শিল্পমালিকদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করার কথাও বলেন তিনি।

এদিকে গ্যাস–সংকটের কারণে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। চৌধুরীর মতে, বিদ্যুতের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা কমাতে হবে। অজনপ্রিয় হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে। তিনি মনে করেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করা জরুরি। এ ধরনের রিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি সড়কে যানজটও তৈরি হচ্ছে। আগে পায়ে চালিত রিকশাই জনপ্রিয় ছিল, তাই চালকদের ক্ষতির আশঙ্কা করে এ সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বল্পমেয়াদি এসব পদক্ষেপের বাইরে দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ–জ্বালানি সমস্যা সমাধানে এখনই কার্যকর নীতি–সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন এই শিল্পোদ্যোক্তা। দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে নতুন করে খনন করা গেলে কিছু গ্যাস পাওয়া যেতে পারে, যা সাময়িকভাবে সংকট কাটাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি জ্বালানিসংকটের স্থায়ী সমাধানে স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনাল বসানোর পরামর্শ তাঁর। এজন্য মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ইতোমধ্যে জায়গাও ঠিক করা আছে বলে জানান তিনি।

চৌধুরী আরও বলেন, সিঙ্গাপুরের মতো মাতারবাড়ীকে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি হাব বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলে মাতারবাড়ীর মতো গভীর সমুদ্রবন্দর আর নেই, তাই এই সুযোগকে কাজে লাগানো উচিত। দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধন বা রিফাইনারি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।