মানবজাতির সম্মিলিত উদ্ভাবনী ক্ষমতার উদাহরণ টেনে ডেভিড বুথ বলেছেন, একসময় নদীর জমাট বাঁধা বরফ কেটে শহরে এনে খাবার ঠান্ডা রাখার ব্যবসা ছিল লাভজনক। আজ ব্লুটুথ সংযুক্ত রেফ্রিজারেটর সেই কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হয়তো তেমনি এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে—কাজের রুটিন তৈরি থেকে শুরু করে ছুটির পরিকল্পনা পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজে এটি সহায়ক, এমনকি স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও কর্মজগতে বড় অগ্রগতির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে স্টক ও বন্ড বাজারে দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা পরিবর্তন করবে না বলে তিনি আস্থা প্রকাশ করেছেন।

ডাইমেনশনাল ফান্ড অ্যাডভাইজার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বুথ মনে করেন, পাবলিক মার্কেট বিশ্বের বৃহত্তম তথ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রের মতো। ক্রেতা-বিক্রেতারা সেখানে মিলে একটি লেনদেনে সম্মত হন—উভয় পক্ষকেই দাম ন্যায্য মনে করতে হয়। দাম বেশি হলে কেউ কিনবে না, কম হলে কেউ বিক্রি করবে না। দিনে লক্ষাধিকবার এমন প্রক্রিয়া চললে শেয়ারের দাম যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে স্থির হয়।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় বুথ সেই তথ্য বিপ্লবের অংশ ছিলেন, যা বিনিয়োগ জগতে বাজারের দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। ১৯৬০-এর আগে কেউ জানত না বাজারব্যাপী পোর্টফোলিও গড়ে কী রিটার্ন দেয়। এখন ১০০ বছরের তথ্য থেকে জানা যায়, গত শতাব্দীতে মার্কিন শেয়ারবাজারের গড় বার্ষিক রিটার্ন ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। পেশাদার স্টক পিকারদের বেশিরভাগই এই গড়কেও হারাতে পারেন না। বাজারে সব তথ্য প্রতিফলিত হয়—যে কোনো মানুষ বা মডেলের চেয়ে দ্রুত—এই ধারণাই বেশি গ্রহণযোগ্য বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এআই এজেন্ট দিয়ে বাজারকে হারানো সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নে বুথের জবাব স্পষ্ট। রিটার্ন অনিশ্চিত, আর কোনো এআই এজেন্টই ভবিষ্যৎ জানে না। একটি নির্দিষ্ট এআই মডেল দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিতভাবে বাজারের চেয়ে ভালো করবে—এমন ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়। তথ্য সংগ্রহে এআই সহায়ক হলেও সেই সুবিধা সব বাজারের অংশগ্রহণকারীই পাবে। তাই এআই দিয়ে শেয়ার কেনাবেচা শুধু উদ্বেগ আর এলোমেলো শব্দ যোগ করে।

পুরো পোর্টফোলিও ‘এআই স্টক’য়ে বিনিয়োগও হতাশাজনক হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। ইতিহাস বলছে, ডটকম যুগে টেলিকম কোম্পানিগুলো যেমন ইন্টারনেটের অবকাঠামো গড়েছিল, সেভাবে আজকের এআই কোম্পানিগুলোও দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৯৯ সালের শীর্ষ টেলিকম স্টকগুলোর (লুসেন্ট টেকনোলজিস ও নেক্সটেল কমিউনিকেশনস) মধ্যে ২৫ বছর পর শুধু একটি কোম্পানি নিজস্ব কাঠামো টিকিয়ে রাখতে পেরেছে। আজকের বাজারের অনেক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে, অনেকটা বাদ পড়বে, আর নতুন বিজয়ীর আবির্ভাব হবে যাদের নিয়ে এখন কেউ ভাবছে না। গুগল তো ২০০৪ সালে পাবলিক হয়েছিল। সোনার খনির সময়ে লেভি স্ট্রস যে বড় বিজয়ী হবে, কে জানত?

বুথের পরামর্শ—বিজয়ী বাছাইয়ের জুয়া খেলার দরকার নেই। বিস্তৃত ও বিচিত্র পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগ করলেই ভবিষ্যতের যে কোনো পরিবর্তনে অংশ নেওয়া যায়। পাবলিক মার্কেট হাজারো প্রতিযোগিতামূলক আইডিয়ায় অর্থায়ন করে, যার কিছু ব্যর্থ হবে, আর সফল দিকেই দ্রুত মূলধন প্রবাহিত হবে। ২০২৭ সালে ডেটা সেন্টার থেকে চিপ—সব মিলিয়ে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত, সেটি হয়তো বড় টেক কোম্পানিগুলোতে যাবে, অথবা অন্য কোনো খাতে। তাই বিচিত্র পোর্টফোলিও ধরে রাখলে অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা সহজ হয়, আর উদ্বেগ না করে বাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হওয়া যায়।

বুথ মনে করেন, উন্মুক্ত পাবলিক মার্কেট উদ্ভাবনের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে—শুধু প্রতিষ্ঠাতা বা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের নয়। এআই বড় সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন উন্নত করবে বলে তিনি আশাবাদী, এমনকি ভালো রেফ্রিজারেটরও তৈরি করবে। কিন্তু বাজারকে হারাতে এআই সাহায্য করবে না বলেই তার অভিমত।