খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. জহিরুল হকের নিয়োগের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গিয়েছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা। শনিবার বেলা একটা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয় এবং সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক সৈয়দ আমানুল ইসলাম একটি অফিস আদেশে চিকিৎসক জহিরুল হককে উক্ত বিভাগের দায়িত্বভার প্রদানের নির্দেশ দেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল আলম ৩০ সেপ্টেম্বর অবসর গ্রহণ করবেন এবং তাঁর অবসরের দিন থেকেই জহিরুল হক নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটি। তাঁদের অভিযোগ, অধ্যাপক জহিরুল হকের আওয়ামী লীগ এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সঙ্গে গভীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতা করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে এনেছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মো. এস এম কামরান হোসেন জানান, শিক্ষক হিসেবে জহিরুল হকের একাডেমিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই, তবে তাঁকে বিভাগীয় প্রধান করাটা অনৈতিক। তাঁর মতে, স্বাচিপের আজীবন সদস্য এবং ফ্যাসিস্ট মানসিকতার একজন ব্যক্তির অধীনে তাঁরা কাজ করতে রাজি নন।

শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে উক্ত অফিস আদেশ বাতিল করে জহিরুল হককে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মবিরতি চলবে। তবে খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এবং রোগীদের কষ্টের কথা ভেবে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যাপক মো. জহিরুল হক দাবি করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি খুলনায় ছিলেন না, বরং আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে শাস্তিমূলকভাবে গোপালগঞ্জে বদলি করে পাঠিয়েছিল। স্বাচিপের কোনো তালিকায় তাঁর নাম নেই বলে দাবি করে তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালে তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন ও ফি জমা দিয়েছিলেন এবং খসড়া তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।