প্রয়াত প্রথিতযশা সাংবাদিক আতাউস সামাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে তার জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করে উপস্থিত সহকর্মী ও পরিচিতজনরা জানান, আতাউস সামাদ ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত নম্র ও নরম স্বভাবের হয়ে থাকলেও পেশাগত সিদ্ধান্তে ছিলেন অটল। কোনো প্রকার বহিঃশক্তির চাপ তাকে তার অবস্থান থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, তিনি শৈশব থেকেই আতাউস সামাদের ভক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তার পরামর্শ গ্রহণ করতেন। এমনকি রাজনৈতিক জীবন শুরু করার ক্ষেত্রেও আতাউস সামাদের সহায়তা পেয়েছেন তিনি। সালামের মতে, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আতাউস সামাদের মতো স্বাধীনচেতা মানুষের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চাপের মুখেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় ছিলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, যিনি আতাউস সামাদের ছাত্র সাংবাদিক ছিলেন, তিনি জানান যে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও তাকে সমীহ করতেন। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার মতো প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরাও আতাউস সামাদকে দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট খবর পরিবেশন করানোর সাহস পাননি। তার নীতিগত দৃঢ়তার কারণেই তিনি রাজনৈতিক মহলে এত বেশি সম্মানিত ছিলেন। বার্তা সংস্থা, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং সাপ্তাহিকসহ সংবাদমাধ্যমের প্রায় সব মাধ্যমেই তিনি কাজ করেছেন এবং তার ব্যক্তিত্ব ছিল অনন্য।
আতাউস সামাদের সহকর্মী সাংবাদিক ইলিয়াস খান তাকে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, সঠিক সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে কীভাবে দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে হয়, আতাউস সামাদ তার জীবন দিয়ে তা দেখিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক ও কলামিস্ট খায়রুল আনোয়ার মুকুল তার সম্পাদকের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে বলেন, আতাউস সামাদ অনুমাননির্ভর রিপোর্ট লেখা একদমই পছন্দ করতেন না। বিশেষ করে 'সংশ্লিষ্ট মহল' বা 'অজ্ঞাত সূত্র' এর মতো অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার না করে সুনির্দিষ্ট তথ্য, নাম এবং দলিলের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশনের ওপর তিনি কঠোরভাবে গুরুত্ব দিতেন।
১৯৯২ সালে একুশে পদকে ভূষিত এই বরেণ্য সাংবাদিক ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। বিএজের সভাপতি এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন ফয়সালের সঞ্চালনায় এই স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, লেখক সাখাওয়াত হোসেন শায়ন্ত এবং ডিইউজে ও বিএফইউজের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সাংবাদিক।




