নির্মাণাধীন সিলেট-ঢাকা ছয় লেনের মহাসড়কটি ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে। শনিবার দুপুরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকায় সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের এক অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে এই ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যার অন্যতম অংশ এই মহাসড়ক প্রকল্পের কাজ। তিনি অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হলেও বাস্তবায়নে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ এবং জমি অধিগ্রহণের কাজ বাকি থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে ছিল। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ১২ মাসের মধ্যেই রাস্তার বর্তমান কাজগুলোর দৃশ্যমান রূপ স্পষ্ট হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির সমাপ্তি ঘটবে। মহাসড়কের পাশাপাশি সিলেট-ঢাকা এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতির আশ্বাসও দেন তিনি।
ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দেশের এসএমই (SME) খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক দেশে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৫৮ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হলেও বাংলাদেশে তা মাত্র ৩৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ। স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে তিনি মনে করেন। বরং বিদ্যমান অনেক কার্যপ্রণালী ব্যবসাবান্ধব হওয়ার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সিলেটে এমন পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল মুনিম মল্লিক। উপস্থিত অন্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি সিলেটকে পর্যটন এবং প্রবাসীদের প্রাধান্য দেওয়া এলাকা হিসেবে অভিহিত করে এর বিপুল সম্ভাবনার কথা জানান। সিলেটকে একটি শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর করতে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করার আহ্বান জানান। এই পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম।




