ভূমি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং ভূমিসেবা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামের একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই ছয় জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে চলছে এই ব্যবস্থা। এসব জেলার ৬১০টি ভূমি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই অ্যাপের আওতায় আনা হয়েছে। পাইলটিংয়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাপের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনের সব ভূমি কার্যালয়কে একটি অভিন্ন ডিজিটাল মনিটরিং কাঠামোর আওতায় আনতে পারলে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কর্মচারীদের জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে এবং মাঠপর্যায়ে ভূমিসেবা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, এই ব্যবস্থায় ‘জিও ফেন্সিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। মানচিত্রের উপর নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণের এই প্রযুক্তিতে প্রতিটি ভূমি অফিসের চারপাশে একটি নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের ভার্চুয়াল সীমানা তৈরি করা হয়। কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মোবাইল ফোনের অবস্থান সেই সীমানার ভেতরে থাকলে মোবাইল অ্যাপে উপস্থিতি নিবন্ধনের সুযোগ চালু হয়। ফলে কর্মস্থলের বাইরে থেকে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ একেবারেই থাকছে না।
অ্যাপটিতে নির্ধারিত কর্মস্থলে পৌঁছে চেক-ইন এবং কর্মদিবস শেষে চেক-আউট করার পাশাপাশি ছুটির আবেদনও করা যাবে। অফিস চলাকালীন কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল সংকেত প্রদর্শিত হবে। তবে অফিসে উপস্থিত থেকে কোনো কর্মকর্তা সভা, তদন্ত বা সরকারি প্রয়োজনে বের হলে ‘সাইট ভিজিট’ অপশনের মাধ্যমে প্রস্থানের কারণ উল্লেখ করতে পারবেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভূমি অফিসে নাগরিকরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে নানা সেবা গ্রহণ করেন। তাই সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা মানসম্মত সেবার পূর্বশর্ত। ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত মাঠ প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়গুলো সরেজমিনে নিয়মিত তদারকি করা সময়সাপেক্ষ ও কঠিন। অবস্থানভিত্তিক অনলাইন যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গেলে তদারকি কার্যক্রম অনেক সহজ ও কার্যকর হবে।
পাইলটিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে এই ব্যবস্থার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ।




