ভুলবশত ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার কারণে আটকের পর ১১ দিন পর মুক্তি পেলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার চর থেকে পাট ক্রয় করে নৌকায় করে বাঘায় ফেরার পথে তীব্র স্রোতের কারণে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। ফলে তাঁদের নৌকাটি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার ঢুকে পড়ে, যেখানে বিএসএফ-এর একটি টহল দল তাঁদের আটক করে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সাগরপাড়ার বিএসএফ ক্যাম্প থেকে আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পদ্মা নদীর তীরে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেন (২২), শাহাবুল আলী (৪২), বাবর আলী (৪৫), নৌকার মাঝি আসাদুল ইসলাম (৪১) এবং সাইফুল ইসলাম (৫৮)।
ঘটনাটি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিজিবি ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে বিজিবির সঙ্গে বিএসএফ-এর পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তবে সেখানে জানানো হয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া তাঁদের ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে না। এই জটিল পরিস্থিতি সমাধানে এগিয়ে আসেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ। তিনি রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সাথে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন। এই প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে অবশেষে তাঁদের মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়।
আটক থাকাকালীন তাঁদের ভারতের রানীনগর থানায় রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মাঝি আসাদুল ইসলামের ভাই সাহারুল ইসলাম। তাঁর মতে, শুরুতে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের পরিচয় নিয়ে কিছুটা ভুল বুঝলেও পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভুল করে সীমান্তে প্রবেশের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করা হয়নি, বরং তাঁদের যত্ন সহকারে রাখা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যবসায়ীদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সাঈদ। তিনি জানান, পাঁচ ব্যক্তির নৌকা, পাট এবং দুটি সাইকেল এখনও ভারতের কাছেই রয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যেন দ্রুত এই মালামালগুলো তাঁদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়, সে বিষয়ে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।




