গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বিশাল উৎপাদন কেন্দ্র, যা কর্মীদের কাছে 'ঢাকা ইউনিট' নামে পরিচিত। প্রায় ১৭৫ একর জায়গার ওপর বিস্তৃত এই কারখানার নকশাটি করা হয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বোভিস লেনড লিজ দ্বারা। ১৯৫৮ সালে পাবনায় যাত্রা শুরু করলেও ২০০২ সালের শেষ দিকে এই আধুনিক কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এখানে পাঁচটি আলাদা প্ল্যান্ট রয়েছে, যেখানে ট্যাবলেট-ক্যাপসুলের পাশাপাশি ইনসুলিন, ইনজেকশন, চোখের ওষুধ এবং সেফালোস্পোরিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়। প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কর্মী দিন-রাত পালাক্রমে এই কারখানাটিকে সচল রাখেন।

কারখানার ফরমুলেশন ইউনিট-৫-এর কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ৮০০ কোটি ট্যাবলেট এবং ২০০ কোটি ক্যাপসুল। ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। এই ইউনিটের উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রি-ডিসপেনসিং কক্ষ থেকে। ওয়্যারহাউস থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এনে বিএমআর (ব্যাচ ম্যানুফ্যাকচারিং রেকর্ড) অনুযায়ী মেপে আলাদা আলাদা ব্যাগে ভরা হয় এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় পোস্ট ডিসপেনসিং রুমে রাখা হয়। এরপর দ্বিতীয়বার পরিমাপ নিশ্চিত করে গ্র্যানুলেশন এরিয়ায় স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে উপকরণগুলো মেশানো হয়।

মেশানো মিশ্রণটি আইবিসি (ইন্টারমিডিয়েট বাল্ক কনটেইনার) নামক পাত্রে ভরে ব্লেন্ডিং ধাপে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কমপ্রেশন মেশিনের মাধ্যমে ট্যাবলেটের আকার ও মনোগ্রাম অনুযায়ী ওষুধ তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় সঠিক ওজনের ট্যাবলেটগুলো সবুজ পাত্রে এবং ভুল ওজনেরগুলো লাল পাত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা হয়ে যায়। এরপর ডিডাস্টারের মাধ্যমে ধুলো পরিষ্কার এবং মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে ধাতব কণার উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে বডি ও ক্যাপ আলাদা করে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফিলিং করার পর তা বন্ধ করা হয়।

উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে ইন-প্রসেস কন্ট্রোল (আইপিসি) রুমে ট্যাবলেটের ওজন, শক্তিবৃদ্ধি, ব্যাস, পুরুত্ব এবং আর্দ্রতা পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া একটি বিশাল মান নিয়ন্ত্রণকক্ষে ওষুধের দ্রবীভূত হওয়ার সময় এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব যাচাই করা হয়। দেশি-বিদেশি মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কঠোর নির্দেশনা এখানে অনুসরণ করা হয়। সবশেষে প্যাকেজিং বিভাগ থেকে ওষুধগুলো প্যাকেট করে ভ্যানের মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়। কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে হলে কঠোর সুরক্ষা নীতি মেনে হাত স্যানিটাইজ করা, বিশেষ জুতা এবং মাস্ক ও অ্যাপ্রন পরা বাধ্যতামূলক। একটি ওষুধ চূড়ান্তভাবে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর আগে কত স্তরের সূক্ষ্ম পরীক্ষা এবং অসংখ্য মানুষের পরিশ্রম জড়িত থাকে, এই কারখানার প্রতিটি কোণ সেই সাক্ষ্য দেয়।