৮৩তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে নিজের হাতে তৈরি একটি কতুর পোশাকে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশি ডিজাইনার তাসমিম জোবায়ের। গ্ল্যামার, সূক্ষ্ম কারুকাজ ও নাটকীয় সিলুয়েটের সমন্বয়ে সাজানো লুকটি ভেনিসের সিনেমাটিক পরিবেশের সঙ্গে যেন মিশে গেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাসমিমের কাজ নতুন নয়; এর আগে ২০২৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবেও তাঁর নকশা করা পোশাকে নজর কেড়েছিলেন নাগমা মিরাজকর ও উর্বশী রাউতেলা। উর্বশীর পরা সেই স্প্রিং/সামার ২০২৬ কতুর গাউনে ছিল ক্রিস্টাল ও মুক্তার কাজ, সঙ্গে ভলিউমিনাস স্কার্ট। প্যারিস ফ্যাশন উইকে জিভাঁশির স্প্রিং/সামার ২০২৬ কালেকশনেও কাজ করেছেন তিনি। ফলে কান থেকে প্যারিস, এবার ভেনিস—আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চেই নিজের প্রতিভার ছাপ রাখলেন এই বাংলাদেশি ডিজাইনার।

চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী তাসমিম মাত্র ১৫ বছর বয়সে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ২০১৯ সালে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন উইকে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর প্যারিস ফ্যাশন উইকেও তাঁর কতুর প্রদর্শিত হয়েছে। এবারের ভেনিস উৎসবে রেড কার্পেটে পেনেলোপে ক্রুজ, হাভিয়ের বারদেম, ডাকোটা জনসন, অ্যালিসিয়া ভিকান্ডার ও রবার্ট প্যাটিনসনের মতো তারকারা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বেশ কিছু আলোচিত চলচ্চিত্রও ছিল এবারের আয়োজনে। তাই সিনেমার পাশাপাশি তারকাদের রেড কার্পেট লুক নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ফ্যাশন হাউসগুলোর জন্যও নতুন কাজ প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। ফ্যাশন মাস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই এখানে ডিজাইনারদের নতুন ভাবনার দেখা মেলে। ২০২৫ সালে বোটেগা ভেনেতা, ডিওর ও শ্যানেলের নতুন কাজের কিছু আভাসও মিলেছিল উৎসবের রেড কার্পেটে। সেই ধারাবাহিকতায় তাসমিমের ভেনিস লুকটি শুধু একটি গ্ল্যামারাস মুহূর্ত নয়; বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি কউচারের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির গল্পেও এটি নতুন সংযোজন। ভেনিসের আলোয় তাসমিম জোবায়েরের কতুর লেখা হলো আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।