যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের খল চরিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর। সেখান থেকে বুধবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে রস+আলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মনজুর কাদের। দীর্ঘ তিন যুগের অভিনয় জীবনে অসংখ্য নায়ক-নায়িকার সঙ্গে পর্দায় লড়াই করেছেন, কিন্তু এবার তাঁকে সামলাতে হলো রস+আলোর কঠিন প্রশ্নগুলো। শুরুতে তিনি হাসিমুখে বলেন, “বাংলাদেশের সব নায়ক-নায়িকার মুখোমুখি হয়ে এখনো সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি, তাই রস+আলোর মুখোমুখি হয়েও নিজের সম্মানটা বজায় রাখতে পারব। তবে কিছুটা সাসপিশিয়াসও লাগছে!”

প্রশ্ন করা হলো, তাঁর ব্রেন কি শুধু সিনেমার পর্দাতেই চালু, নাকি ব্যক্তিগত জীবনেও? উত্তরে তিনি বলেন, “কিছু কিছু সংলাপ জীবনের দর্শন হয়ে যায়। মূল বিষয় হচ্ছে সব পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়া। তাই ডায়ালগ হওয়া উচিত—নাম আমার লালু, ব্রেনটা বড়ই চালু, প্রয়োজনে নিজের ব্রেনকে করব মসৃণ আর ঢালু।”

জমিদার বংশধর হওয়ার প্রসঙ্গে মিশা জানান, চৌদ্দপুরুষের ইতিহাস তিনি জানেন না, তবে তিন পুরুষের কথা তিনি জানেন। তাঁর দাদা জুম্মন সওদাগর, বাবা উসমান সওদাগর এবং তিনি মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, “আমি তিন যুগ ধরে আমার সওদাগরি অক্ষুণ্ন রেখেছি।” পছন্দের রং সম্পর্কে তিনি বলেন, ঋতুভেদে রং বদলায়—আবহাওয়া অনুযায়ী কখনো সাদা, কখনো কালো, কখনো সোনালি।

সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “পৃথিবী একটা বড় স্টেডিয়াম, মানুষ এখানে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। যে সামনে থাকে, সে-ই উত্তম। তাই সবাই নিজের চাট্টিবাট্টি গোল করে নিজের যোগ্যতায় উত্তম হতে চায়, এটাই আমার নেশা।”

তাঁকে নিয়ে প্রচুর মিম তৈরি হয়—এই প্রসঙ্গে মিশা বলেন, “পৃথিবীতে মানুষ একটু বিনোদিত হতে চায়, আর আমাদের চেষ্টা থাকে বিনোদিত করার। মিমগুলো দেখে মজাই লাগে, আমিও বিনোদিত হই।” সবচেয়ে পছন্দের মিমের কথা জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন ‘বলো না কবুল’ দৃশ্যটির কথা—যেখানে নায়িকাকে কবুল বলতে বিলম্ব হলে তিনি জোরে ঝাড়ি দিয়ে বলেন ‘বল কবুল’, আর কবুল বলার পর কাজি সাহেবকে লাথি মারেন। এই দৃশ্যটিই সবচেয়ে ভাইরাল হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিএমসি (ধরো, মারো, ছাড়ো) প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, সময়ের সাথে সাথে বোধ ও বিচারের পরিবর্তন হয়েছে। এখন তাঁর ডিএমসি হলো—ডেডিকেশন, মেডিটেশন অ্যান্ড কনসেনট্রেশন। সবচেয়ে প্রিয় ডায়ালগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পছন্দের ডায়ালগ তো অনেক, কোনটা রেখে কোনটা বলি! এ মুহূর্তে মনে পড়ছে—‘জয়কালে ক্ষয় নাই, মরণকালে ওষুধ নাই!’”

অবশেষে রস+আলোকে একটি ডায়ালগ ডেডিকেট করতে বললে মিশা সওদাগর বলেন, “আরিয়ান মির্জা আমার ছেলে, আমার পৃথিবী। পৃথিবীর সবখানে হাত দিলেও এই একটি জায়গায় হাত দেওয়া যাবে না। যদি হাত দেন, তাহলে আপনার এমন জায়গায় হাত দেব, আপনার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে!”

সাক্ষাৎকারের শুরুতে মিশা সওদাগরের মন্তব্য ছিল, “আমার চিন্তা—রস+আলো আমাকে সামলাতে পারবে তো!”