প্রাচীনকালের সাধু-সন্ন্যাসীরা দর্শকদের সামনে প্রায়ই বিভিন্ন চমকপ্রদ জাদু প্রদর্শন করতেন। যেমন, কোনো সিদ্ধ পুরুষ কেবল হাতের ইশারায় মাটিতে পড়ে থাকা একটি দড়িকে খাড়া করে দাঁড় করিয়ে দিতেন। বর্তমান সময়েও অনেক জাদুকর এই ধরণের কৌশল দেখান। তবে এসবের পেছনে কোনো অলৌকিক শক্তি থাকে না, বরং থাকে সুনিপুণ হাত সাফাই কিংবা দর্শকদের মোহাবিষ্ট করার বিশেষ কৌশল। সাধারণ মানুষ খালি চোখে তা বুঝতে না পারায় একে অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা বলে মনে হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, একটি ভারী পাথরের টুকরো কি কোনো কৌশল ছাড়াই নিচ থেকে ওপরে উঠতে পারে? বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর উত্তর হলো—হ্যাঁ, সম্ভব। একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে এটি প্রমাণ করা যায়। প্রথমে একটি কাচের গ্লাসের নিচে ছোট একটি পাথরের টুকরো রেখে পুরো গ্লাসটি শুকনো চাল দিয়ে পূর্ণ করতে হবে। এরপর গ্লাসটি এক হাতের তালুতে ধরে অন্য হাতের তালু দিয়ে গ্লাসের মুখে বারবার আঘাত করতে হবে। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, বালু বা চালের চেয়ে পাথরের ওজন বেশি হওয়ায় তা নিচে পড়ে থাকার কথা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যাবে, পাথরটি ধীরে ধীরে চালের বাধা কাটিয়ে উপরের দিকে উঠে আসছে।
এই একই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে একসময় একটি জনপ্রিয় খেলা তৈরি করা হয়েছিল। এই খেলায় দুই প্রান্ত বন্ধ একটি কাচের নলের ভেতরে একটি লোহার গোলক এবং বাকি অংশে বালু ভরা থাকে। নলটিকে লম্বভাবে ধরে উপরের প্রান্তে হাতের তালু দিয়ে ক্রমাগত বাড়ি দিলে লোহার বলটি বালুর স্তূপ ভেদ করে ওপরে উঠে আসে। এর মূল কারণ হলো ভরবেগ। বালুকণার তুলনায় লোহার গোলকের ওজন অনেক বেশি হওয়ায় ঝাঁকুনির ফলে এতে অধিক ভরবেগ সৃষ্টি হয়, যা একে উপরের দিকে ঠেলে দেয়।
উল্লেখ্য যে, দড়ির জাদুর মতো এটি কোনো হাত সাফাই বা দৃষ্টিবিভ্রম নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম মেনে চলে। যেখানে জাদুকররা কৌশল ব্যবহার করেন, সেখানে এই ঘটনাটি বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের এক চমৎকার উদাহরণ।




