রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার ও সেবার মানোন্নয়নে লিফট এবং একটি নির্দিষ্ট 'ডিজেবল কর্নার' স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম গ্রন্থাগারের বর্তমান সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এই বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন।

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি দীর্ঘ সময় ধরে কেবল সিঁড়ির মাধ্যমেই ব্যবহৃত হয়ে আসছিল, যার ফলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্নতলায় যাতায়াত করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া ভবনের প্রবেশমুখে অবস্থিত তিনটি এক্সেসিবল গেইট দীর্ঘকাল অচল থাকায় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতেই নতুন এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় কেবল লিফট এবং বিশেষ কর্নারই নয়, বরং নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা দুটি বিশেষ শৌচাগারও নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি গ্রন্থাগারের বাইরে শিক্ষার্থীদের সাইকেল ও মোটরবাইক সুশৃঙ্খলভাবে রাখার জন্য একটি গ্যারেজ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই উদ্যোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, লিফটের অনুপস্থিতির কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা দীর্ঘকাল ধরে গ্রন্থাগারের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আর্থিক সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে লিফট স্থাপন করা হবে। এছাড়া গ্রন্থাগারের একটি নির্দিষ্ট কক্ষকে 'ডিজেবল কর্নার' হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে এই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।