ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গুরুতর অভিযোগ তুলেছে যে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীরা ২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার অনুরূপ অরাজকতা ভারতে সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছেন। বিজেপির দাবি, এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল এবং জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তন করা। বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এই অভিযোগগুলো সামনে আনেন।
বিজেপির এই প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহার একটি ভিডিও বার্তা। সোশ্যালিস্ট স্টুডেন্ট ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনের জন্য পাঠানো ওই বার্তায় নেহা মন্তব্য করেন যে, ভারত সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে বর্তমানে দেশটিতে যে আন্দোলন চলছে, তা ২০২৪ সালের বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত। তার মতে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যেভাবে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, ভারতের তরুণরাও একইভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং দুই দেশের আন্দোলনের অভিজ্ঞতার মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ২ অক্টোবর থেকে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) বড় ধরনের আন্দোলন শুরু করেছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং তাদের জোট ‘ইনডিয়া’ এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। এমনকি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস ও ইনডিয়া জোট দিল্লিতে পদযাত্রার আয়োজন করে, যেখানে নেহা বোরাকেও অংশ নিতে দেখা যায়। এই আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ এবং ব্যাপক ধড়পাকড়ের অভিযোগ উঠেছে।
বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সংবাদমাধ্যম পিটিআই-কে জানান, নেহা বোরার বক্তব্যে মূলত রাহুল গান্ধীর মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, রাহুল গান্ধী ভারতে ‘জেন-জি’ আন্দোলন তৈরির চেষ্টা করছেন, যা কোনো গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ নয় বরং একটি নৈরাজ্যবাদী প্রচেষ্টা। ভান্ডারির মতে, গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয়ে রাহুল গান্ধী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার পরিবারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চাইছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত প্রতিবাদ মিছিলে নেহা বোরার উপস্থিতি এই ষড়যন্ত্রের একটি বড় প্রমাণ। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কংগ্রেস দল বা নেহা বোরার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




