সৌরজগতের প্রধান শক্তি সূর্য প্রায়শই সৌরশিখা বা সোলার ফ্লেয়ার এবং শক্তিশালী বিকিরণ তৈরি করে। তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সূর্য আরও শক্তিশালী 'সুপারফ্লেয়ার' বা মহাবিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, যা পৃথিবীর বর্তমান প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর সোলার সিস্টেম রিসার্চের গবেষকরা এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
এই গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পরিমাপ করা প্রায় ৩০০টি শক্তিশালী সৌরশিখার শক্তি ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। ওই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী নাটালি ক্রিভোভা জানান, তাদের বিশ্লেষণে সৌরশিখার তীব্রতা এবং সূর্যের সক্রিয় অঞ্চলের আয়তনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগত যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, সূর্যের ভেতরেই সুপারফ্লেয়ার তৈরির সক্ষমতা রয়েছে এবং বিশাল আকারের সানস্পটগুলোই মূলত এই চরম বিকিরণ বিস্ফোরণের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।
ঐতিহাসিক তথ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে গবেষকরা একটি দানবীয় সানস্পটের খোঁজ পেয়েছিলেন, যা চার শতাব্দী ধরে সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়। ওই সানস্পটটি সূর্যের দৃশ্যমান অংশের প্রায় ০.৬ শতাংশ এলাকা জুড়ে ছিল, যা পৃথিবীর ব্যাসের তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ বড়। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, অতীতে পৃথিবীতে আঘাত হানা ভয়াবহ সৌরঝড়গুলোর পেছনে এই ধরনের সুপারফ্লেয়ার দায়ী ছিল।
যদিও এই গবেষণায় সুপারফ্লেয়ার ঘটার সঠিক ফ্রিকোয়েন্সি বা নির্দিষ্ট সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি, তবে এর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ধরণের শক্তিশালী সৌরঝড় সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করলেও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। এই কারণেই সূর্য ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় এবং কখন এই চরম সুপারফ্লেয়ার তৈরি করে, তা নিবিড়ভাবে জানা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা।




