বাংলাদেশের প্রকৃতিতে নতুন করে পরিচিতি পাচ্ছে এক বিশেষ প্রজাতির লতানো উদ্ভিদ, যার ইংরেজি নাম ‘গোল্ডেন ক্যাসকেড ভাইন’। এর চমৎকার রূপের কারণে একে ‘সোনালি ঝরনালতা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যদিও বাংলাদেশের resmi উদ্ভিদ তালিকায় এটি এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং কোনো নির্দিষ্ট বাংলা নাম দেওয়া হয়নি। ঢাকার সাভারে অবস্থিত বরিশাল নার্সারিতে প্রথম এই গাছটির দেখা মেলে। নার্সারি মালিক মো. ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্যমতে, কয়েক বছর আগে থাইল্যান্ড থেকে এই গাছটি সংগ্রহ করা হয় এবং বর্তমানে এতে ফুল ফুটছে।
উদ্ভিদতাত্ত্বিক তথ্যানুসারে, কিউ সায়েন্সের বিশ্ব উদ্ভিদ তালিকায় এই গাছটির নাম ‘Petraeovitex bambusetorum’ এবং এর প্রতিনাম ‘Petraeovitex bambusetorum f. simplicifolia’। এটি ল্যামিয়েসি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এই গাছটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ভূমিমুখী লতা, যা বাসরলতার মতো কাণ্ড থেকে নিচের দিকে ঝুলে থাকে এবং ৩ থেকে ৬ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। এর পাতাগুলো মসৃণ, ডিম্বাকার এবং সরল বা ত্রিপত্রিক যৌগিক প্রকৃতির।
বসন্তকাল থেকে শুরু করে শরৎকাল পর্যন্ত এই গাছে ফুল ফোটে, যা অনেক সময় শীতকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ৫০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি দীর্ঘ পুষ্পমঞ্জরিতে সোনালি হলুদ কিংবা ক্রিম সাদা রঙের ফুলগুলো বেণীর মতো নিচের দিকে ঝুলে থাকে। এই ফুলগুলোর হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ মৌমাছি, প্রজাপতি ও বিভিন্ন পতঙ্গকে আকর্ষণ করে, যা বাগানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
যত্নের বিষয়ে কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায় জানান, রৌদ্রোজ্জ্বল বা আংশিক ছায়াযুক্ত স্থানে এই গাছ ভালো জন্মায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন গোড়ায় পানি জমে না থাকে। গাছটি লাগানোর প্রাথমিক পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে শুষ্ক ও উষ্ণ দিনে নিয়মিত পানি দেওয়া প্রয়োজন। খরা সহ্য করার ক্ষমতা থাকা এই গাছটি খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন করে না; কেবল ফুল ফোটার মৌসুম শেষ হলে হালকা ছেঁটে দিলে এর গঠন সুন্দর হয়।
মূলত মালয়েশিয়ার বোর্নিও ও উপদ্বীপ অঞ্চলের এই উদ্ভিদটি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মনে করা হচ্ছে এটি বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে। বাড়ির ছাদ, বারান্দার রেলিং, বাগানের দেয়াল, তোরণ কিংবা পারগোলা সাজাতে এই গাছটি অত্যন্ত কার্যকর। এমনকি কোনো অবলম্বন বা সহায়ক থাকলে বড় ঝুলন্ত টব বা ঝুড়িতেও এটি লাগানো সম্ভব।




