বর্তমান আবাসন বাজারে প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা এক চরম সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে মর্টগেজ রেট বা ঋণের সুদের হার পুনরায় ৭ শতাংশের ঘরে পৌঁছানোয় অনেকের জন্য নতুন বাড়ি কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহামারি চলাকালীন সময়ে যখন সুদের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল, সেই অভিজ্ঞতা বর্তমান প্রজন্মের ক্রেতাদের কাছে একটি মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও ঐতিহাসিকভাবে সেই হার ছিল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। ফার্স্ট আমেরিকান ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনের ডেপুটি চিফ ইকোনমিস্ট ওডেটা কুশি জানান, বর্তমান ক্রেতাদের কাছে কোনো পুরনো স্বল্প-সুদযুক্ত মর্টগেজ নেই যা তারা কাজে লাগাতে পারেন, ফলে তাদের সরাসরি বর্তমানের উচ্চ সুদের হার মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ক্রেতাদের জন্য কেবল সুদের হারই বাধা নয়, বরং বাড়ি বা জমির আকাশচুম্বী দাম আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, মহামারির শুরুর তুলনায় বর্তমান বাড়ির গড় দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের মতে, ক্রেতারা যখন ৬ শতাংশ সুদের হারে মানিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন, ঠিক তখনই হারটি আবার বেড়ে গেছে। ফলে এখন অনেকের কাছেই আবাসন বাজার চরমভাবে ব্যয়বহুল মনে হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের রিয়েল এস্টেট ব্রোকার কেন সিসন উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান অসামঞ্জস্যতার একটি বড় কারণ হলো মহামারির সময়ে স্বল্প সুদের প্রলোভনে স্থানীয় বাজারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া।
আরেকটি প্রধান সমস্যা হলো ডাউন পেমেন্ট বা প্রাথমিক অর্থ প্রদান। যারা দ্বিতীয়বার বাড়ি কিনছেন, তারা আগের বাড়ি বিক্রির অর্থ দিয়ে নতুন বাড়ির খরচ মেটাতে পারেন, কিন্তু নতুন ক্রেতাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। হাজার হাজার ডলারের ডাউন পেমেন্ট এবং ক্লোজিং কস্ট বা প্রক্রিয়াগত খরচ জমাতে অনেক সময় বছরের পর বছর লেগে যায়। এই কারণে একটি নতুন প্রবণতা দেখা দিচ্ছে—অনেক তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক তাদের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পরিবারের সাথে থেকে সঞ্চয় করছেন, যাদের কুশি 'শ্যাডো হোমওনার্স' বলে অভিহিত করেছেন।
পরিস্থিতির চাপে পড়ে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে সম্পদ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে 'বেবি বুমার' প্রজন্মের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বাড়ি কেনার জন্য অর্থ সাহায্য করছেন। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েলটরসের ২০২৬ সালের প্রোফাইল অনুযায়ী, প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের মধ্যে ২৫ শতাংশই ডাউন পেমেন্টের জন্য পরিবার বা বন্ধুদের কাছ থেকে ঋণ বা উপহার হিসেবে অর্থ গ্রহণ করেছেন। নিউ ইয়র্কের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ভেরোনিিক পেরিন জানান, বর্তমানে তার অধিকাংশ চুক্তিতেই অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি জড়িত থাকে।
তবে ওডেটা কুশির মতে, বর্তমান বাজারের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ৩ শতাংশ সুদের সময় বাজারে প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা এবং বিডিং যুদ্ধের কারণে দাম দ্রুত বাড়ত এবং ক্রেতাদের অনেক শর্ত ছাড় দিতে হতো। কিন্তু এখন বাড়িগুলো বাজারে দীর্ঘ সময় থাকছে, ক্রেতাদের কাছে বিকল্প পছন্দ বেশি এবং বিক্রেতারা দাম কমানো বা ক্লোজিং খরচে ছাড় দিতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী। ফলে ক্রেতারা এখন সঠিক দাম এবং সঠিক বাড়ি খোঁজার ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি দরকষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন।




