পটুয়াখালীর এক ১৪ বছর বয়সী কিশোর তার চারপাশের পরিবেশে বাল্যবিয়ের যে বাস্তব চিত্র দেখছেন, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কেবল তার নিজের এলাকাতেই নয়, বরং আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বাল্যবিয়ের ঘটনা এখনও প্রকট। এই সামাজিক ব্যাধিটি তাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদকের মতে, একটি মেয়ের বিয়ের উপযুক্ত বয়স হওয়ার আগেই যদি তার বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়, তবে তার শিক্ষা জীবন মাঝপথে থেমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে অনেক মেয়েই তাদের ব্যক্তিগত স্বপ্নগুলো পূরণ করার সুযোগ হারায়। তার চারপাশের অনেক মেয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, বিয়ের পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিনি মনে করেন, শৈশব হলো খেলাধুলা, শিক্ষা গ্রহণ এবং আগামীর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার শ্রেষ্ঠ সময়। এই কোমল বয়সে বিয়ের মতো গুরুতর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে তা ওই কিশোরীর জীবনকে আমূল বদলে দেয়। বাল্যবিয়ে কেবল বর্তমান জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয় একটি মেয়ের ভবিষ্যৎকে।

দেশের প্রতিটি শিশু যেন স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে এবং মেয়েরা যেন যথাযথ শিক্ষা শেষ করে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, সেই আকাঙ্ক্ষাই ব্যক্ত করেছেন এই কিশোর। তাই বাল্যবিয়ের এই অশুভ প্রথার বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।