দৈনন্দিন জীবনের ডিজিটাল প্রয়োজনীয়তা এবং গ্রাহকদের বাজেটের কথা মাথায় রেখে স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল ‘হেলিও১১০’। বর্তমানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বাড়ায় প্রিমিয়াম ফোন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, সেই শূন্যতা পূরণ করতেই এই ফোনের আত্মপ্রকাশ। ২৬,৯৯৯ টাকা দামের এই স্মার্টফোনটিতে দেওয়া হয়েছে ১৫ মাসের সার্ভিস ওয়ারেন্টি এবং গ্রামীণফোনের বিশেষ বান্ডল অফার।
ফোনটির ডিজাইনে আনা হয়েছে আধুনিকতা। থ্রিডি ডুয়েল কার্ভড এবং স্লিম বডির কারণে এটি হাতে ধরতে আরামদায়ক ও প্রিমিয়াম মনে হয়। পিইউ লেদার ও পলিকার্বোনেটের মিশ্রণে তৈরি এই ফোনটি ফ্লেম অরেঞ্জ ও নেভি ব্লু—এই দুটি আকর্ষণীয় রঙে পাওয়া যাবে। এই ফোনের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর পেছনের ছোট ‘রিয়ার ভিউ ডিসপ্লে’। এই ডিসপ্লের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নোটিফিকেশন, সময়, তারিখ, ইমোজি এবং ভলিউম পরিবর্তনের আপডেট সরাসরি দেখতে পাবেন, ফলে বারবার মূল স্ক্রিন খোলার প্রয়োজন হবে না।
ডিসপ্লের ক্ষেত্রে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৬৭ ইঞ্চির থ্রিডি ডুয়েল কার্ভড অ্যামোলেড এফএইচডি+ প্যানেল। ১০৮০×২৪০০ রেজোল্যুশন, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং ১০ বিট কালার ডেপথের কারণে ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা হবে অত্যন্ত প্রাণবন্ত। এছাড়া ১০,০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস নিশ্চিত করায় সূর্যের কড়া আলোতেও স্ক্রিন পরিষ্কার দেখা যাবে। চোখের সুরক্ষায় এতে যুক্ত করা হয়েছে ফ্লিকার-ফ্রি টেকনোলজি, ইন্টেলিজেন্ট ডিমিং এবং সারকাডিয়ান রিদম স্লিপ কেয়ারের মতো বিশেষ সুবিধা।
পারফরম্যান্সের জন্য হেলিও১১০-এ দেওয়া হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ চিপসেট। ৬ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারের এই অক্টা-কোর প্রসেসরে রয়েছে ১১০০ মেগাহার্টজ জিপিইউ, যা গেমিং ও মাল্টিটাস্কিংকে করবে দ্রুততর। ফোনটিতে ৮ জিবি র্যাম রয়েছে, যা ভার্চুয়ালি বাড়িয়ে ১৬ জিবি পর্যন্ত করা সম্ভব। সাথে আছে ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে এতে ৬ হাজার এমএএইচ হাই-ডেনসিটি ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। বক্সেই দেওয়া হবে ৪৫ ওয়াটের চার্জার, যা দিয়ে মাত্র ৩৫ মিনিটে ৫০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব।
ফটোগ্রাফির জন্য এতে ৬৪ মেগাপিক্সেল আইএমএক্স মেইন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইআইএস (EIS) সাপোর্ট করে। এর ফলে ভিডিও বা ছবির শেক কমে আসে এবং ফুটেজ আরও স্থিতিশীল হয়। পাশাপাশি রয়েছে ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো ক্যামেরা। সেলফির জন্য সামনে ৩২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। ক্যামেরায় আরও আছে ডুয়েল-ভিউ ভিডিও, লাইভ ফটো, স্পোর্টস মোড এবং স্মার্ট গ্রুপ ফটোর মতো সৃজনশীল ফিচার।
স্থায়িত্বের জন্য ফোনে আইপি৬৪ রেটিং এবং বডিতে আয়রন গার্ড প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে, যা ১ মিটার উচ্চতা থেকে পড়লেও স্ক্র্যাচ বা ভাঙনের ঝুঁকি কমাবে। অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমে চলবে এই ফোনটি, তবে ভবিষ্যতে অ্যান্ড্রয়েড ১৭ আপডেট করার সুযোগ থাকবে। অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আনলক, এনএফসি, ইনফ্রারেড রিমোট এবং ডুয়েল স্পিকার। কলের মান উন্নত করতে যুক্ত করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তি।




