বইখাতা আর স্কুলব্যাগের বদলে অনেক শিশুর কাঁধে এখন জীবিকার বোঝা। শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ, খেলাধুলা এবং শিক্ষার সুযোগ ছেড়ে তারা নেমে পড়ছে কর্মক্ষেত্রে। এই পরিস্থিতি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং একটি প্রকট আন্তর্জাতিক সমস্যা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং ইউনিসেফের ২০২৫ সালের যৌথ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশু শিশুশ্রমের সাথে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু এমন সব ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত, যা তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

শিশুশ্রমের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে চরম দারিদ্র্যকে। পরিবারের আর্থিক অনটন মেটাতে অনেক শিশুকে বাধ্য হয়ে উপার্জনের লড়াইয়ে নামতে হয়, যার ফলে অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। এর পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের কম মজুরিতে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করার প্রবণতা এই সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম এবং অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করার ফলে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। একই সাথে বিদ্যমান শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। কেবল আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং নিয়োগকর্তা, পরিবার এবং সামগ্রিক সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি যাতে প্রতিটি শিশু তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পায়। প্রতিটি শিশুরই অধিকার আছে একটি নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার, নতুন কিছু শেখার এবং নিজের ভেতরের সম্ভাবনাগুলোকে বিকশিত করার।