যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে হারিকেন ইসাইয়াসের তাণ্ডবে ব্যাপক প্রাণহানি ও നാശനഷ്ട ஏற்பட்டுছে। শক্তিশালী বাতাস এবং প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সরকারি তথ্যানুসারে, ফ্লোরিডা এবং আলাবামা—এই দুই অঙ্গরাজ্যে দুটি করে মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে বাড়ির ওপর গাছ উপড়ে পড়া।

poweroutage.us-এর দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল নাগাদ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগহীন হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার শেষ রাতে সর্বোচ্চ ১০৫ মাইল (১৬৮ কিমি) প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ফ্লোরিডায় আঘাত হানে এই হারিকেনটি, যা পরবর্তীতে একটি পোস্ট-ট্রপিক্যাল সাইক্লোনে পরিণত হয়। ঝড়ের তীব্রতায় প্রচুর গাছ উপড়ে গেছে এবং অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তায় ফ্লোরিডা, আলাবামা এবং জর্জিয়াতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ফ্লোরিডা ও আলাবামায় হাজার হাজার মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ফ্লোরিডার এসকাম্বিয়া কাউন্টিতে দুটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় শেরিফ চিপ সিমন্স জানান, একজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়ির ওপর গাছ পড়ার কারণে। অন্যদিকে, জোয়ি উইলিয়ামস নামে এক ব্যক্তি জানান, আকাশের দৃশ্য ও ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি দেখার জন্য তিনি ও তার স্ত্রী বাইরে গিয়েছিলেন। ভেতরে ফেরার সাথে সাথেই একটি গাছ তাদের বাড়ির ছাদ ভেঙে ভেতরে পড়ে, যার ফলে তিনি কোনোমতে বেরিয়ে আসতে পারলেও তার স্ত্রী প্রাণ হারান। এছাড়া, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই এমন একটি গ্যারেজে জেনারেটর চালানোর ফলে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং একই বাড়িতে থাকা আরও চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বন্যা কবলিত এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন ডুবে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। ফ্লোরিডা ন্যাশনাল গার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (X) জানানো হয়েছে, তারা একটি ডুবে যাওয়া ট্রাক থেকে যাত্রীদের সাঁতার কেটে উদ্ধার করেছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন।

প্রতিবেশী রাজ্য আলাবামাতেও দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। একটি গাড়ি দুর্ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন একজন শেরিফ। আলাবামার গভর্নর কে ইভে এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, ওই অঙ্গরাজ্যে দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তাদের মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। পাশাপাশি প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিবায়ু বা টর্নেডোর বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সাধারণ মানুষকে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সাউথ ক্যারোলিনার চার্লস্টনে শনিবার রাতে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে, কারণ সেখানে জোয়ারের উচ্চতা ৭.৫ ফুট (২.৩ মিটার) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। শহরের কর্তৃপক্ষ ফেসবুক পোস্টে সতর্ক করেছে যে, অন্ধকারের পর বন্যার পানির গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে, যা চালকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ন্যাশনাল ওসিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) সতর্ক করেছে যে, হারিকেনটি উত্তর-পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় দুর্বল হলেও জর্জিয়া এবং ক্যারোলাইনা অঞ্চলগুলোতে ১০ ইঞ্চি (২৫ সেমি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আটলান্টিকের এই হারিকেন মৌসুমটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল এবং ইসাইয়াস ছিল এই মৌসুমের প্রথম হারিকেন। এছাড়া, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রপিক্যাল স্টর্ম রেচেল এবং মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে হারিকেন সাইমন আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।