বাংলাদেশে ভ্রমণের সময় ল্যাপটপ এবং ক্যামেরা চুরি হওয়া জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের পাশে দাঁড়ালেন এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। মুক্তি মাহমুদ নামের একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্রিলকে একটি ম্যাকবুক উপহার দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে এই ল্যাপটপটি হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় ট্রেনের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে ব্যাগ রেখেছিলেন ১৮ বছর বয়সী ক্রিল। টাকা তুলে ফিরে এসে তিনি দেখেন ওই ব্যক্তি এবং তাঁর ব্যাগ—দুটোই নিখোঁজ। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। এই ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় বসে ক্রিলের কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওটি দেখেই মর্মাহত হন মুক্তি মাহমুদ। তিনি জানান, তাঁর নিজের ছেলেও বিদেশে পড়াশোনা করে, তাই ক্রিলের এই অসহায় অবস্থা দেখে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন। একজন বিদেশি পর্যটকের সাথে এমন ঘটনা ঘটা দেশের জন্য লজ্জাজনক এবং এটি জাতীয় ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে তিনি মনে করেন।
দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করা মুক্তি মাহমুদ বর্তমানে 'আনজুমান ডিজাইনারস লিমিটেড' নামক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। জিগাতলায় বসবাসকারী এই ব্যবসায়ী জানান, তাঁর অনেক বিদেশি বন্ধুও ক্রিলের এই পরিস্থিতি নিয়ে বিব্রত হয়েছিলে। তাই বাংলাদেশ ছাড়ার আগে যেন এই তরুণ পর্যটক কিছু ইতিবাচক স্মৃতি মনে করে ফিরতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই উপহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শাওন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ক্রিলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন তিনি।
উপহার হিসেবে নতুন ম্যাকবুক পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ক্রিল ল্যান্ডার। তিনি বলেন, জিনিসপত্র হারানোর পর থেকে অনেক মানুষ তাঁকে সহমর্মিতা জানিয়েছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই নতুন ল্যাপটপটি ব্যবহার করে তিনি পুনরায় তাঁর কাজ শুরু করতে পারবেন এবং এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের অংশ হয়ে থাকবে। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, ক্রিল খণ্ডকালীন চাকরি করে নিজের উপার্জনে ওই ল্যাপটপটি কিনেছিলেন, যা চুরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এই উপহারের ফলে দেশের সম্মানে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা করেন।
তবে নতুন ল্যাপটপ পেলেও ক্রিলের পুরোনো মালামাল এখনো উদ্ধার হয়নি। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ব্যাগটি নিয়ে যেতে দেখা গেছে। রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। বুধবার রাতে রাজশাহীতে পুলিশ ক্রিলের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল এবং পরদিন তিনি ট্রেনে করে ঢাকায় পৌঁছান। পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও এখনো তাঁর চুরি হওয়া ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।




