দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টার মধ্যবর্তী সময়ে এই মৃত্যুগুলো ঘটে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৮৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯ জন। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে দেশে হামজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বর্তমানে ৯৬৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে বয়সের নির্দিষ্ট বিবরণ না থাকলেও রোগতত্ত্ববিদদের মতে, এই রোগ সব বয়সের মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকে। সাধারণত প্রাদুর্ভাবের সময়ে উপসর্গজনিত মৃত্যুগুলোকেই হামে মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশব্যাপী ১ হাজার ১৫১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৯ জনের শরীরে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

নিশ্চিত হামের ক্ষেত্রে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ২১৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আশার কথা এই যে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। সম্প্রতি মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন বরিশাল বিভাগের, একজন ঢাকার এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।

হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩২ হাজার ২৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) জেনেভা সদর দপ্তরে জমা দেওয়া জুলাই মাসের প্রাথমিক উপাত্তে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হামের রোগী বাংলাদেশে পাওয়া গেছে। এই আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেদনে উদ্বেগজনকভাবে জানানো হয়েছে যে, গত এক বছরে এক বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ হাজার শিশুর মধ্যে চার হাজারেরও বেশি শিশু হামের টিকার কোনো ডোজই পায়নি। একইভাবে, এক থেকে চার বছর বয়সীদের চার হাজার রোগীর মধ্যে দেড় হাজার জন কোনো টিকা পায়নি এবং মাত্র ৫০০ জন এক ডোজ টিকা নিয়েছে। এছাড়া ৫ থেকে ৯ বছর বয়সীদের এক হাজার রোগীর অর্ধেকই টিকার আওতামুক্ত ছিল।