আসন্ন আসিয়ান কাপের কথা মাথায় রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শেষে জাতীয় ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি দলের বর্তমান পরিস্থিতি ও গ্রুপের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছেন। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় কোচ বেশ চিন্তিত। এছাড়া ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন সামান্য চোট নিয়ে দলের সাথে থাকলেও তার পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে সংশয় রয়েছে। তপু বর্মন ডিফেন্ডার হওয়া সত্ত্বেও তার পরিবর্তে শাহরিয়ার ইমন নামের একজন ফরোয়ার্ডকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে ডুলি জানান, ওই নির্দিষ্ট পজিশনে বিকল্প ভালো ডিফেন্ডার না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রিমিয়ার ডিভিশনের 'এ' গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের তুলনায় বাংলাদেশ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে। ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম এবং সিঙ্গাপুর ১৪৮তম অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশ ১৮১তম। প্রতিপক্ষদের সামর্থ্য নিয়ে ডুলি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার দলে বুন্ডেসলিগা, ইতালিয়ান লিগ বা ডাচ লিগের মতো উচ্চপর্যায়ের লিগে খেলা ছয়-সাতজন খেলোয়াড় রয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশের একমাত্র হামজা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলছেন। আকাশ-কুসুম কল্পনা না করে এই ব্যবধানটি বোঝা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তবে ফুটবলের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিপক্ষ যদি বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয় এবং বাংলাদেশ যদি সর্বোচ্চ লড়াই করে, তবে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দুর্বল দলগুলো এভাবেই মাঝে মাঝে চমক দেখায় এবং সেই আশাতেই তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটবল দলের ও খেলোয়াড়দের নিয়ে চলমান সমালোচনা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফুটবল বা খেলার কৌশল রাতারাতি আয়ত্ত করা সম্ভব নয় এবং কাউকে হঠাৎ করে দক্ষ খেলোয়াড় বানানো যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় খেলোয়াড়দের অহেতুক আক্রমণ করে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার পরিবর্তে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
শেখ মোরসালিনের চোটের বিষয়ে ডুলি জানান, তার কাফ মাসলে সামান্য সমস্যা ছিল। এমআরআই রিপোর্টে বড় কোনো ঝুঁকি না পাওয়া যাওয়ায় তিনি দলের সাথেই আছেন এবং আরও তিন দিন পর অনুশীলনে ফিরতে পারবেন। বর্তমানে দলের ফরোয়ার্ড লাইনে রাকিব হোসেন, ফাহামিদুল ইসলাম, মিনহাজুল করিম স্বাধীন এবং মোরসালিন রয়েছেন। ফিলিপাইনের কোচিং অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে র্যাঙ্কিংয়ে ৪০-৫০ ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়েছিল। একইভাবে উচ্চপর্যায়ের লিগের খেলোয়াড়দের সাথে নিজেদের ভুলগুলো বুঝে সংশোধন করে মানোন্নয়ন করতে হলে পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন, যা রাতারাতি সম্ভব নয়।




