দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ও শূন্য পদ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী। সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এই পরিসংখ্যান দেন।
প্রতিমন্ত্রীর বরাতে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসের শেষ দিন পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন ব্যক্তি চাকরিরত রয়েছেন। তবে অনুমোদিত পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য পড়ে আছে, যার পরিমাণ ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২।
মঙ্গলবারের সংসদ অধিবেশনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদগুলোর বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুসারে, সিনিয়র সচিব ও সচিব পদ অনুমোদিত রয়েছে ৬৯টি, যেখানে কর্মরত রয়েছেন ৬৭ জন। অতিরিক্ত সচিব পদ অনুমোদিত ৩৬৮টি—এই পদে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৭৮ জন, যা অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে কিছুটা বেশি। যুগ্ম সচিব পদ অনুমোদিত ১ হাজার ১১৬টি, কিন্তু কর্মরত রয়েছেন ৮৯৩ জন। উপসচিব পদে অনুমোদিত ২ হাজার ২৪৫ পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত ১ হাজার ৬৪৫ জন। মোট চারটি গ্রেড মিলিয়ে অনুমোদিত পদ ৩ হাজার ৭৯৮, যেখানে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা।
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই শূন্য পদ পূরণে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞ ও চাকরিপ্রার্থীরা। সংসদে এ তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও নজর কেড়েছে।
প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী অনুমোদিত পদের অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরতের সংখ্যা অনুমোদিত পদের চেয়ে বেশি হলেও এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বিস্তারিত কিছু জানাননি।
গোপালগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যা এই প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তাঁর প্রশ্নের উত্তরেই সরকারি চাকরির জনবল পরিস্থিতির এই চিত্র ফুটে ওঠে।




