জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিকো গত ৫ জুলাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দুটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) পরিদর্শন করেন। এই সফরের সময় তিনি জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থাপিত আধুনিক জাপানি প্রযুক্তি জে-ড্রামের কার্যকারিতা সরেজমিনে দেখেন। সময়, শ্রম ও জায়গা সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকায়ও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের আশা ব্যক্ত করেন জাইকার শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে ডিএনসিসি প্রশাসকের কার্যালয়ে জাইকা বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ঢাকার নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ঢাকা গড়তে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাইকার পক্ষ থেকে চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ তাকাহাশি জুনকো জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তি সরবরাহ, ওয়ার্কশপ নির্মাণ, নতুন ল্যান্ডফিল তৈরিতে কারিগরি সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে জাইকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। জাইকার প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিনিধি হিদেকি ওসাওয়া ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি বিশেষজ্ঞ মাতসুকুরা ইউ।

বৈঠকে ‘ক্লিন ঢাকা মাস্টার প্ল্যান’ (২০১৮-২০৩২) এবং চলমান বর্জ্য হ্রাস ও টেকসই সমাজ গঠনে সহায়তা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকার নগর উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘদিনের অবদান, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক সেবা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। জাইকার প্রতিনিধিরা ডিএনসিসির উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।