রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে পাবনার কাশীনাথপুরের একটি মাদ্রাসা মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা মজলিসে শুরার অধিবেশনে প্রধান বক্তব্য দেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামে পরিচিত। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, দেশের সাধারণ মানুষ ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কামনা করলেও একটি নির্দিষ্ট মহলের ক্ষমতার লালসার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাদের ‘অতি লোফ’কেই তিনি এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম সরাসরি না নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আমেরিকা ও ভারতের সমর্থন লাভের আশায় ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যারা ইসলামের নামে জাতিকে প্রতারণা করে, তাদের সম্পর্কে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চরমোনাই পীর দলের নেতা-কর্মীদের বন্যাকবলিত ও পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সরকারকে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ধর্ষণ, খুন, চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কোরআনের শাসনই একমাত্র সমাধান। স্বাধীনতাকে শোষণমুক্ত ও অর্থবহ করতে সর্বত্র আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধান বক্তা চরমোনাই পীর অধিবেশনে পাবনা জেলা পূর্ব শাখার ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এতে মাওলানা সোলাইমান জাহাঙ্গীরকে সভাপতি ও মো. রাশিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। দলটির পাবনা জেলা পূর্ব শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।