রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে রোববার 'জুলাইয়ের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে ওলামায়ে কেরামের অবদান' শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, ইসলামি স্কলার মুফতি কাজী ইব্রাহীম, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখের মহাসচিব মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানীসহ অন্যান্য আলেম-ওলামারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন না করলে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সুবিচার করা সম্ভব হবে না। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকার ৯৮টি আইনরূপে বাস্তবায়ন করলেও ৩৫টি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত। তাঁর মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে সাবেক উপদেষ্টা বলেন, সে সময় দেশে কার্যত প্রশাসনিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। সংসদ, সরকার—কিছুই ছিল না, অনেক থানায় আগুন দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশও দায়িত্ব পালনে ছিল না। শিক্ষার্থীরা সে সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মতো কাজ হাতে নিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সরকারি গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকলেও ক্ষমতার কোনো স্বাদ তাঁরা পাননি; বরং দায়িত্বই ছিল বড়। অস্ত্রোপচারের পর বিদেশ থেকে ফিরে বিভিন্ন জেলায় সফর ও জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের কবর জিয়ারত এবং আহতদের হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিভাজন প্রসঙ্গে আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দলের মধ্যে কাদা-ছোড়াছুড়ি বাড়ছে এবং এর পেছনে তৃতীয় কোনো শক্তির ভূমিকা থাকতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পানি ঘোলা করতে পারলে মাছ ধরা সহজ হয়। মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মাওলানা আব্দুল হালিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বিভাজনের নয়, বরং সব ধারার আলেমদের ঐক্যের শিক্ষা দিয়েছে। বিগত সময়ে দাড়ি, টুপি ও পাগড়ি পরার কারণে বহু ইমাম-খতিব ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। গোয়েন্দা নজরদারির কারণে অনেকে স্বাধীনভাবে খুতবা দিতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটলেও এর পেছনে দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রাম রয়েছে। আলেম-ওলামারা দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে সচেতন করেছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করেছে, যার ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলনের শক্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা যাইনুল আবেদীন দেশে ন্যায়বিচার ও দ্বীনি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।