আমেরিকান ফুটবল লিগ এনএফএলের খেলোয়াড়দের ওপর আরোপিত জক ট্যাক্সের বোঝা ২০২৬ মৌসুমে কেমন হবে, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত হিসাব সামনে এসেছে। এই কর মূলত খেলোয়াড়দের আয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, যা তারা বিভিন্ন রাজ্যে বা দেশে ম্যাচ খেলার সময় অর্জন করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি কর দিতে হবে সেই সব খেলোয়াড়কে যারা উচ্চ করের রাজ্যে বা আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেন।
কর গণনার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের 'ডিউটি ডে' বা কাজের দিনের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি রাজ্যে কত দিন তারা প্রশিক্ষণ বা ম্যাচ খেলছেন, তার ভিত্তিতে করের হার নির্ধারণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্কের মতো রাজ্যে করের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় সেখানে খেলা খেলোয়াড়দের ওপর চাপ বাড়ে। এছাড়াও, ২০২৬ সালে নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নির্ধারিত থাকায় যেসব খেলোয়াড় বিদেশে খেলবেন, তাদের জক ট্যাক্সের পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শিবিরের অবস্থানও এই কর গণনায় প্রভাব ফেলে। অনেক দল তাদের প্রশিক্ষণ শিবির বিভিন্ন রাজ্যে আয়োজন করে, যা খেলোয়াড়দের করযোগ্য আয়ের ভিত্তি পরিবর্তন করে দেয়। প্রতিবেদনে রাজ্যভিত্তিক একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো কোনো ব্যক্তিগত আয়কর নেই এমন রাজ্যের খেলোয়াড়রা তুলনামূলকভাবে কম জক ট্যাক্সের মুখোমুখি হন। অপরদিকে, উচ্চ করের রাজ্যগুলোতে খেলা খেলোয়াড়দের আয়ের একটি বড় অংশ কর হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। এই করের বোঝা কমাতে কিছু খেলোয়াড় তাদের চুক্তি ও বাসস্থানের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় খেলোয়াড়দের কর পরিকল্পনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। লন্ডন, মেক্সিকো সিটি ও জার্মানির মতো স্থানে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর জন্য স্থানীয় কর আইন মেনে চলতে হবে, যা অনেক সময় খেলোয়াড়দের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করে। এই প্রেক্ষাপটে, ২০২৬ সালের সবচেয়ে বেশি জক ট্যাক্স প্রদানকারী খেলোয়াড়দের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শীর্ষস্থানীয় কিছু তারকার নাম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনটি খেলোয়াড়দের আর্থিক উপদেষ্টাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




