অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনটি মেহেদী হাসান মিরাজের একক নৈপুণ্যের সুবাদে সম্মানজনক অবস্থানে শেষ হয়েছে। ডারউইনের মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের এই ম্যাচে প্রথম দিন বুধবার শেষে মিরাজের সেঞ্চুরিতে ভর করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৬৩ রানে অলআউট হয়। জবাবে দিন শেষে স্বাগতিক দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫১ রান।

ম্যাচের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য হতাশার। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দল তৃতীয় ওভারেই হারায় ওপেনার তানজিদ হাসানকে। আট বলে কোনো রান না করেই তিনি সাজঘরে ফিরে গেলে ধাক্কা লাগে দলন। তবে চূড়ান্ত আঘাতটি আসে অভিজ্ঞ ওয়ানডাউন ব্যাটার মুশফিকুর রহিমও যখন রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। উভয়ই শূন্য রানে আউট হন।

অস্ট্রেলিয়ার একাদশের পক্ষে ঘূর্ণি জাদু দেখান অফ স্পিনার কোরি রকিল্লি। প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে ৫২ ম্যাচে ১৭৯ উইকেটের মালিক এই ডানহাতি স্পিনার আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষাতেই আছেন। প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি বাংলাদেশি ব্যাটারদের জন্য দূরারোহ প্রাচীর হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশের শীর্ষ সাড়ির কয়েকজন ভাালো শুরু পেয়েও এগোতে ব্যর্থ হয়। ৫৩ বল মোকাবেলা করে ৩৭ রান নিয়ে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সাদমান ইসলাম ৪৭ বলে করেন ৩১ রান।

কিন্তু কোরির স্পিন ঘূর্ণাবর্তে আটকে যান বাদবাকি বাঁহাতি ব্যাটারগণ। সাদমান, মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার ও তাইজুল ইসলাম — এই চার বাঁহাতিই তার শিকার হন। পাশাপাশি পেসার হাসান মাহমুদ ও আগেই আউট হওয়া মুশফিকুর রহিমকেও ফেরান তিনি। মোট ২৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৬টি উইকেট তুলেন নেন কোরি।

১৯৪ রানেই যখন ৯ উইকেট পতন হয়, তখন ভিজিটরদের দুইশ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার জোরালো আশংকা দেখা দেয়। কিন্তু ঠিক সেই চাপের মধ্যে মিরাজের প্রতিরোধী ব্যাটিং ভেলা বানান করে। সাত নম্বরে নেমে তিনি শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদের সাথে ৬৯ রানের অপিচেয় জুটি বাঁধেন। এতে পেসের দক্ষিণা হাওয়ায় দলীয় রানটি আড়াইশ ছাড়িয়ে যায়। ২৮ বলে ১৫ রান করে খালেদ যখন অ্যাউট হন, তখন মিরাজ ছিলেন ১৪১ বলের লড়াই শেষে ১১ চার ও ৪ ছক্কার দানবিক এক ইনিংসে ১০৯ রানে অপরা জাত।

এরপর সন্ধ্যার আলোয় সত্যিকারের পরীক্ষায় পড়ে স্বাগতিক ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। তাদের ব্যাটিং শুরুও মন্থর হয়। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই পেসার হাসান মাহমুদের শর্ট ডেলিভারি মোকাবেলায় ক্যাম তুলে দিয়ে মারা যান ওপেনার স্যাম কনস্টাস, মাত্র ১ রানে। ঠিক তার পরের ওভারে তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ে বোল্ড হন ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে, যিনি কোন রানই করতে পারেবান নি। মাত্র ১ রানতে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতে চাপে পড়লেও কুর্টিস পিটারসন (২৬) ও জশ ফিলিপ (২২) বাকী সময় পার করে দেন। ৫৮ বলে অপরাজিত ৫০ রানের জুটি গড়ে তোলেন এই দুজন। বাংলাদেশের পক্ষে চার জোরের দুইটি মেইডেন করে হাসান মাহমুদ দেন মোটর ৪ রান, তাসকিন ১ উইকেটে ২৪ এবং ইবাদত ও খালেদ সিনিয়র কোনো সাফল্য ছাড়াই নিজেদের বোলিং শেষ করন।

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্ট এবং ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈরথের আগে নিজেদের দুর্বলতা ও আত্মবিশ্বাসের ফারাক খুঁজে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এটি বাংলাদেশের জন্য।