পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় রক্তাক্ত এক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে বাড়ি ফেরার পথে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুষ্কৃতকারীরা। শনিবার রাতে নদীয়ার নাগাদি রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কারাগারে বন্দী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জব্বার শেখের পরিকল্পনা ও নির্দেশনাতেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় এক পঞ্চায়েত প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত পঞ্চায়েত প্রধান ফাতেমা বিবি জব্বার শেখের স্ত্রী এবং তিনি হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত থেকে জানা যায়, শনিবার রাতে বেথুয়াডহরী থেকে ফেরার পথে নাগাদি রেলগেটের কাছে একদল দুষ্কৃতকারী আনিসুর রহমানের গাড়ি আটকায়। এরপর গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করে তাঁকে জোর করে টেনে নামিয়ে বেধড়ক পিটুনি দেয় এবং গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে বেথুয়াডহরী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জব্বার শেখের গ্রেপ্তারের বদলা নেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জব্বার শেখকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নিজের গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ নিতেই তিনি প্রতিপক্ষ কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলেকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য সচিবালয়ে রোববার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'তৃণমূলই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, জব্বার শেখ এখন জেলে আছে। জেল থেকেই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জব্বার শেখের স্ত্রীও গ্রেপ্তার হয়েছেন, যিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান।'

এদিকে, এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার কংগ্রেসের ডাকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। কলকাতার টালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে একটি বড় প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভকারীরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।