গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের নিকটবর্তী সালামিনা দ্বীপে একযোগে ছড়িয়ে পড়া দুটি দাবানলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের সংখ্যা দুই জন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, আর ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্বীপবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয় এবং প্রচণ্ড বাতাসের কারণে তা দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর মাত্র কয়েক মিনিট পরে দ্বীপের আরেকটি স্থানে দ্বিতীয় দাবানলের খবর পাওয়া যায়। প্রায় ২০০ দমকলকর্মী দুই আগুন নেভাতে এবং সেগুলোকে একত্রিত হয়ে বড় দাবানলে রূপ নেওয়া থেকে প্রতিরোধ করতে কাজ করছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দ্বীপটিতে রোববার দাবানলের উচ্চ ঝুঁকি বিরাজ করছিল। উপকূলরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র গ্রিক সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি-কে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ জনকে সমুদ্রপথে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য পাঁচটি টহল নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বেসরকারি জলযানও স্বেচ্ছায় সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিমান ও প্রায় ৫০টি দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে কাজ করছে। সালামিনার ডেপুটি মেয়র থোদোরিস জানিস জানিয়েছেন, দমকল বাহিনীর প্রধান প্রচেষ্টা হলো দ্বীপের একটি পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করে আগুন যেন একীভূত হয়ে একটিমাত্র বড় দাবানলে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা।
এথেন্সের ঠিক পশ্চিমে অবস্থিত সালামিনা দ্বীপে প্রায় ৩৭ হাজার মানুষের বাস, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবীণ নাগরিক। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সপ্তাহান্তে বেশ কয়েকটি স্থানে দাবানলের ঘটনা ঘটছে। দমকল বাহিনী জানিয়েছে, বহু কল তারা পেয়েছেন, তবে জরুরি অবস্থা ছাড়া বারবিকিউ নিয়ন্ত্রণে তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এদিকে, অনেক পরিবার প্রথমবারের মতো নিজেদের বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে পারছেন। একটি বড় পার্কে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগুনের সূত্রপাতের ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দমকল বাহিনী দাবানলের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা উত্তপ্ত স্থানগুলো নেভানোর দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে।




