মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস লিংকনে কর্মরত নাবিকদের মধ্যে মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার। রবিবার জাহাজটি পরিদর্শনের সময় তিনি এ বিষয়ে মুখ খোলেন।
সম্প্রতি লিংকন জাহাজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে নাবিকদের মধ্যে নিম্ন মনোবল এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কথা তুলে ধরা হয়। এসব প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটেই কমান্ডারের এই সফর ও মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাহাজটিতে কর্মরত নাবিকদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিতে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে কমান্ডার জাহাজটি পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি সরাসরি নাবিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন। পরিদর্শন শেষে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জাহাজটিতে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে।
কমান্ডারের এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে লিংকন জাহাজের নাবিকদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হলো। জাহাজে দায়িত্ব পালনকালে নাবিকদের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা এবং নৈমিত্তিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা — এসব কারণেই মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
পরিদর্শনের সময় কমান্ডার নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি, যেসব নাবিক ইতিমধ্যে মানসিক চাপ বা হতাশার মধ্যে রয়েছেন, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিংকন জাহাজের নাবিকদের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। এমনকি কিছু নাবিক জাহাজের জীবনযাত্রার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সরাসরি অভিযোগও করেন। এ অবস্থায় শীর্ষ কমান্ডারের সরাসরি স্বীকৃতি এবং পদক্ষেপের ঘোষণা অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে কমান্ডার কেবল সমস্যার কথা স্বীকার করেই থেমে থাকেননি; তিনি বরং এর সমাধানে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন। নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।




