পণ্যের প্রচারণামূলক ইমেইলের বিষয়বস্তুতে প্রতারণামূলক তথ্য দেওয়ার অভিযোগের নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো হোলসেল কর্পোরেশন ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার পরিশোধের পথ প্রশস্ত করল। এই যৌথ মামলায় অভিযোগ ছিল, ইমেইলের বিষয়ে সীমিত সময়ের ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও কোম্পানি জেনেশুনেই সেই মেয়াদ শেষের পরও ছাড় বহাল রাখত। ওয়াশিংকনের কিং কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে বিচারাধীন ‘মাইকেল আলান্ড বনাম কস্টকো’ মামলাটি কোম্পানিটির আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে আবর্তিত। তবে, কোনো ধরনের অনিয়ম স্বীকার করেনি কস্টকো। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ব্যয় ও অনিশ্চিত ফল এড়াতেই তারা এই মীমাংসায় পৌঁছেছে।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, ইমেইলের সাবজেক্ট লাইনে কস্টকো বলেছিল, "সদস্য-মাত্র ছাড় পাওয়ার আজ শেষ দিন" এবং "হট বাইস মাত্র ৫ দিনের জন্য উপলব্ধ"। কিন্তু কোম্পানিটি প্রস্তাবের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই জেনে গিয়েছিল যে তারা নির্ধারিত তারিখ পেরিয়েও প্রচার চালিয়ে যাবে। এতে ওয়াশিংটনের কমার্শিয়াল ইলেকট্রনিক মেল আইন ও কনজ্যুমার প্রটেকশন অ্যাক্টের লঙ্ঘন হয় বলে অভিযোগে বলা হয়। মামলাটি ২০২১ সালের ২ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত সময়ের ইমেইল বাণিজ্যিক যোগাযোগকে কেন্দ্র করে।
কে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী: নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, আপনাকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কস্টকো বা তার হয়ে পাঠানো অন্তত একটি বাণিজ্যিক ইমেইল পেতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইমেইল প্রাপ্তির সময় আপনার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে। তৃতীয়ত, আপনি যে ইমেইল ঠিকানায় বার্তাটি পেয়েছেন তা কস্টকোর নথিতে থাকতে হবে। যারা ইতিমধ্যে ইমেইল বা ডাকযোগে বন্দোবস্তের নোটিশ পেয়েছেন, তারা তালিকাভুক্ত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে যারা নোটিশ পাননি কিন্তু শর্ত পূরণ করেন, তারাও আবেদন করার অধিকারী।
ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে কোনো রসিদ বা প্রমাণ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো অনলাইনে ওয়াশিংটন কমার্শিয়াল ইমেইল সেটেলমেন্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে ফরম পুরণ করা। ক্লেইম আইডি না থাকলেও সেখানে আবেদন করা যাবে। আর কেউ চাইলে ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে ডাকযোগেও পাঠাতে পারেন। তবে সব আবেদনই ২০২৬ সালের ২৪ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে জমা বা ডাকে পোস্টমাক ওই তারিখের মধ্যে করতে হবে।
পাওনা অর্থের পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত নয়। ওয়াশিংটনের আইন প্রতি ভুয়া ইমেইলের জন্য ৫০০ ডলার পর্যন্ত দাবির সুযোগ দিলেও, এই নিষ্পত্তি সরাসরি সে অর্থ দিচ্ছে না। পুরো ১.৪ কোটি ডলার থেকে প্রথমে আইনজীবীর ফি, আদালতের ব্যয় ও প্রশাসনিক খরচ কেটে নেওয়া হবে। এরপর অবশিষ্ট সম্পূর্ণ অর্থ বৈধ দাবি করা সব ব্যক্তির মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। ফলে আবেদনকারীর সংখ্যা যত বাড়বে, প্রত্যেকের হাতে আসা রাশি তত ছোট হবে। আবেদন কম হলে প্রত্যেকে বেশি পাবেন। এখনো দাবির সংখ্যা অনিশ্চিত থাকায় সঠিক অর্থ বলা যাচ্ছে না।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নীরব থাকার একটি মূল্য আছে। আপনি যদি যোগ্য শ্রেণীর সদস্য হন কিন্তু সময় মতো দাবি জমা না দেন, তাহলে কোনো অর্থ পাবেন না। এর বাইরে, নিষ্পত্তি চূড়ান্ত হলে আপনি আলাদাভাবে এ বিষয়ে কস্টকোর বিরুদ্ধে মামলার অধিকার হারাবেন। সেই অধিকার ধরে রাখতে চাইলে একই ২৪ আগস্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে বহিষ্কার (অপ্ট আউট) করার সুযোগ রয়েছে। সংবাদটি যাচাই করে প্রকাশের আগে এআই-এর সহায়তা নিয়েছেন ফরচুনের সাংবাদিকরা।




