জেনারেশন জেডের তরুণরা হয়তো পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে পা রাখছে, কিন্তু তাদের অনেককেই এখনও বাবা-মায়ের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ২০২৬ সালে ওয়েলস ফার্গোর এক জরিপে উঠে এসেছে, ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী জেন জেড সন্তানদের প্রায় ৬৪ শতাংশ অভিভাবক এখনও তাদের টাকা, বাসস্থান বা অন্য কোনো আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। তবে এই টানা সহায়তা অভিভাবকদের নিজেদের অর্থনীতিতেও চাপ ফেলছে, কারণ জরিপে অংশ নেওয়া ৫৬ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের বড় সন্তানদের সাহায্য করতে গিয়ে নিজেদের আর্থিক অবস্থা সংকটে পড়ছে।

ওয়েলস ফার্গোর প্রাইভেট ওয়েলথ প্ল্যানিং বিভাগের প্রধান এমিলি আরউইন চলতি বছর ফরচুনকে জানান, ধারণার বিপরীতে জেন জেড সন্তানরা বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য এই সহায়তা নিচ্ছে না। বরং তারা প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার খরচ যেমন ভাড়া, খাবার ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য বাবা-মায়ের ওপর নির্ভর করছে। আরউইনের মতে, জেন জেড প্রজন্ম একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—প্রবেশ স্তরের চাকরির বাজার মন্দা, মজুরি স্থবির এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। এর মধ্যেই তারা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতেও আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, 'যে জেন জেড সন্তানরা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে, তারা আসলে একটি নিখুঁত ঝড়ের মধ্যে রয়েছে। তারা নিজেদের ক্যারিয়ার, পেশা এবং নিয়মিত বেতন পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চিত বোধ করছে। আর এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে আগের বছরের তুলনায় বেশি সঞ্চয় করার ইচ্ছা।' আরউইন জানান, ওয়েলস ফার্গোর ক্লায়েন্টরা প্রায়ই বলেন যে তারা মৃত্যুর পর সম্পদ হস্তান্তর না করে জীবদ্দশায়ই তাদের সন্তানদের সাহায্য করতে চান। এর ফলে বাবা-মায়েরা নিজেরা যে 'বড় উত্তরাধিকার আন্দোলন' থেকে উপকৃত হয়েছিলেন, সেই ধারা পরিবর্তন করতে চাইছেন।

আরউইনের মতে, 'এই চক্রটি নিজেরা অতিক্রম করে, ৫০, ৬০ বা এমনকি ৭০ বছর বয়সে উত্তরাধিকার পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে কম কার্যকরী বলে মনে হয়েছে। তারা আমাদের বলে, আমরা এটি পেয়েছি, কিন্তু সত্যিই এর প্রয়োজন ছিল যখন আমরা পরিবার শুরু করছিলাম, বাড়ি কিনছিলাম, ব্যবসা শুরু করছিলাম, ঋণ পরিশোধ করছিলাম বা ক্যারিয়ার পরিবর্তন করছিলাম।'

সন্তানদের ভাড়া দেওয়া বা টাকা ধার দেওয়া নিঃসন্দেহে বাবা-মায়ের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করে। তবে আরউইন লক্ষ্য করেছেন, এই চাপের বড় একটি অংশ আসলে 'যোগাযোগের সম্পূর্ণ অভাব' থেকে তৈরি হয়। বাবা-মা এবং তাদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা এই আর্থিক সহায়তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন না—সন্তানের আসলে কত টাকা প্রয়োজন, কখন এই সহায়তা শেষ হবে, এবং টাকা ফেরত দিতে হবে কিনা—এসব বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা না থাকায় আর্থিক সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

আরউইন অভিভাবকদের সরাসরি সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, 'আমি বাবা-মাদের উৎসাহিত করি তাদের সন্তানদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে। এটি উপহার নাকি ঋণ, নাকি এর মিশ্রণ—সবকিছু নিয়ে কথা বলুন। ফেরত দেওয়ার কোনো প্রত্যাশা আছে কিনা, থাকলে তা সুদসহ নাকি ছাড়া—এসব নিয়ে আলোচনা করুন। কতদিন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাও পরিষ্কার করুন।'

জেন জেডের আর্থিক ও কর্মজীবনের সংকট নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ২০২৫ সালের কিক্রেজ্যুমের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কলেজ শেষ করা প্রায় ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনও তাদের প্রথম চাকরির খোঁজ করছিল। অন্যদিকে, মিলেনিয়াল ও জেন এক্স প্রজন্মের মাত্র ২৫ শতাংশ কলেজ শেষ করার পর চাকরি পেতে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিল। আর্থিক দিক থেকেও তরুণরা সংগ্রাম করছে। ২০২৫ সালের ফিকো রিপোর্ট অনুযায়ী, জেন জেডের গড় ফিকো স্কোর তিন পয়েন্ট কমে ৬৭৬-এ দাঁড়িয়েছে, যা জাতীয় গড় ৭১৫-এর থেকে ৩৯ পয়েন্ট কম।

গ্লোব্যান্টের পেমেন্টস বিভাগের প্রধান এরিন স্টিলওয়েল ফরচুনকে বলেন, 'জেন জেড হল প্রথম প্রজন্ম যারা একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডিজিটাল ক্রেডিট এবং সামাজিক মাধ্যম-চালিত ভোগের চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।' এই 'নিখুঁত ঝড়' এতটাই তীব্র যে এটি অনেক তরুণের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। অ্যামেরিস্লিপের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ জেন জেড সদস্য দাম, ভাড়া এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন যে তারা ঘুমাতে পারে না।

সবশেষে, আরউইন স্পষ্ট করে বলেন, 'আমি বলব না জেন জেড তাদের সামর্থ্যের বাইরে বাস করছে। তারা একটু অনন্য অবস্থানে রয়েছে... গত কয়েক বছর ধরে আমাদের উচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে—এটি বাস্তবতা। উচ্চ সুদের হার হয়েছে—এটিও বাস্তবতা। তাদের অনেকেই মনে করে তাদের চাকরিতে অস্থিরতা রয়েছে।'