২০২৬ বিশ্বকাপের স্মরণীয় এক মুহূর্তে কেপ ভার্দের লেফট-ব্যাক সিডনি লোপেস কাবরাল এক অসাধারণ গোলে পুরো ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে তার নেওয়া ওই বাঁকানো শটই টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে যখন ২-১ গোলে পিছিয়ে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ে এই ম্যাজিকের জন্ম দেন ২৩ বছর বয়সী এই প্রতিভা।
মাঠের বাঁ পাশের পেনাল্টি এলাকার বাইরে বল পেয়ে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে কাটিয়ে তিনি ডান পায়ের অনবদ্য এক কার্লিং শট নেন। বল চোখের পলকে জড়িয়ে যায় গোলপোস্টের ডান প্রান্তের ওপরের কোণায়, যেখানে দাঁড়িয়ে বিশ্বসেরা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ শুধু নির্বিচার দর্শক হয়ে থাকতে বাধ্য হন। এই স্বীকৃতি পাওয়ার মাধ্যমে কাবরাল ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার হয়ে গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কার ঘরে তোলেন।
শট নেওয়ার সময় নিজের মানসিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে কাবরাল জানান, ম্যাক অ্যালিস্টারকে ফাঁকি দেওয়ার পর একটি ফাঁকা জায়গা নজরে আসে এবং তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন, ‘একটা শট নিয়েই দেখি!’ উভয় পায়ে দক্ষ এই ডিফেন্ডার পোস্টের ওপরের কোনা তাক করে যে শটটি নিয়েছিলেন, তা জাল খুঁজে নেওয়ার পর বিশ্বাস করতে তার নিজেরই কষ্ট হচ্ছিল। তিনি জানান, সতীর্থরা চিৎকার করতে করতে উল্লাসে ফেটে পড়লে তিনি নিজেই অবাক হয়ে ভাবেন, ‘এ আমি কী করে ফেললাম!’
গ্যালারিতে বসা তার মা ও বান্ধবীর উদ্দেশে দৌঁড়ে যাওয়া কাবরাল সেখানে গিয়ে এক অভূতপূর্ব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। উত্তেজনায় আতিশয্যে তার মা আনন্দে কেঁদে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, এরপর সবাই মিলে তাকে সচেতন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কাবরালের ফুটবল জীবনের গল্পটিও কম চমকপ্রদ নয়। নেদারল্যান্ডসে কেপ ভার্দে অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড়ের হাতেখড়ি ফেইনুর্ড ও টুয়েন্টি একাডেমিতে। ২০২২ সালে তিনি জার্মানি পঞ্চম ডিভিশনের রট-উইস এরফুর্ট ক্লাবের হয়ে খেলতেন।
এরপর তার ক্যারিয়ার উল্কাগতি নেয়। ২০২৩-এ জাতীয় দলের অভিষেক, ২০২৫-এ পর্তুগালের এস্ত্রেলা দা আমাদোরায় যোগদান, এবং ২০২৬-এর জানুয়ারিতে বিখ্যাত ক্লাব বেনফিকার সাথে চুক্তি। সেখানে ১২ ম্যাচ খেলার পর বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্তে জুন মাসে তুরস্কের ট্রাবজনস্পোরে পাড়ি জমান। শেষ পর্যন্ত যদিও ১১১তম মিনিটে সহকর্মী দিনারের আত্মঘাতী গোলে কেপ ভার্দে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়, তবুও তাদের প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রা এক দারুণ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
এই গোলটির মাহাত্ম্য এতটাই ছিল যে ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি লেফট-ব্যাক মার্সেলো ম্যাচ শেষে কাবরালকে বার্তা দিয়ে জানান, টুর্নামেন্টের সেরা গোলের জন্য তার ভোটটাও এই গোলের পক্ষে। ২০০৬ সালে ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, ২০১০-এ দিয়েগো ফরলান, ২০১৪-তে হামেস রদ্রিগেজ, ২০১৮-তে বেঞ্জামিন পাভা এবং ২০২২-এ রিচার্লিসনের মত খ্যাতিমান খেলোয়াড়দের তালিকায় এবার জায়গা করে নিলেন এই তরুণ।




