সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া বর্তমানে একটি সাধারণ ঘটনা। তবে ইসলামী শরিয়তের আলোকে এই কাজটি গুরুতর নৈতিক সীমালঙ্ঘনের শামিল। ধর্মীয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি মাত্র স্ক্রিনশট শেয়ারের মধ্যে চারটি পৃথক নিষিদ্ধ কাজ একসঙ্গে সম্পাদিত হয়।
প্রথমত, গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়টি আসে। পবিত্র কোরআনের সুরা হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে মুসলমানদের একে অপরের গোপনীয়তা অনুসন্ধান করতে এবং পরনিন্দা করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই আয়াতে গোপন অনুসন্ধান ও পরনিন্দা দুটিকে একসঙ্গে উল্লেখ করে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে একটি অপরটির দিকে নিয়ে যায়। স্ক্রিনশট সংস্কৃতিতে পুরোনো চ্যাট ঘেঁটে তথ্য বের করা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ডিজিটাল রূপ।
দ্বিতীয়ত, এটি বিশ্বাসের খেয়ানত হিসেবে গণ্য হয়। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি কথোপকথনের সময় গোপন রাখার ইঙ্গিত দেয়, তবে সেই আলোচনা একটি আমানত। ব্যক্তিগত চ্যাটের মাধ্যমেই এই আস্থার ইঙ্গিত নিহিত থাকে। সেই আমানত ভঙ্গ করলে তা মুনাফিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে চিহ্নিত হয়েছে। সহিহ বুখারির হাদিসে মুনাফিকের চারটি চিহ্নের মধ্যে আমানতের খেয়ানত অন্যতম। কারও সঙ্গে সামান্য দ্বিমত হলেই তার পুরোনো গোপন মেসেজ ফাঁস করে দেওয়ার প্রবণতা এই মোনাফেকি বৈশিষ্ট্যেরই ডিজিটাল প্রতিরূপ।
তৃতীয়ত, দোষ গোপন না রেখে তা প্রচার করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে অন্যের দোষ গোপন রাখার জন্য বিশাল পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। সহিহ মুসলিমের হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে গোপন রাখবেন। বিপরীতে, যে ব্যক্তি অন্যের ত্রুটি প্রচার করে, তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। সুনান আবু দাউদের হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ যার গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করেন, তাকে লাঞ্ছিত করেন। স্ক্রিনশট শেয়ার করে কেউ অন্যের দোষ প্রচার করলে সে এই হাদিসের প্রতিশ্রুত শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে।
চতুর্থত, স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া অপবাদের শামিল। বর্তমান যুগে ফেক চ্যাট জেনারেটর ও এডিটিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে নকল স্ক্রিনশট তৈরি করা সহজ। তাই যাচাই না করে শেয়ার করলে তা অপবাদ বা ইফকের পর্যায়ে পড়ে। সুরা নুরের ১৯ নম্বর আয়াতে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ও কুৎসা ছড়ানোর জন্য কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। সহিহ মুসলিমের হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো কথা যাচাই না করেই প্রচার করে, সে মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য হয়।
সুতরাং, একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করার মুহূর্তেই উপরে বর্ণিত চারটি নৈতিক ব্যর্থতা একসঙ্গে ঘটে যায়। প্রতিটির জন্য পরকালীন হিসাব আলাদা। ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ভার্চুয়াল জগতের ক্ষণিক জনপ্রিয়তা বা ট্রলিংয়ের আনন্দের বিনিময়ে নিজের আমলনামা নষ্ট না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।




