কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে হঠাৎ করে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের অঞ্চলসহ দেশের নানা জায়গায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সাধারণ গ্রাহকরা চুলা জ্বালাতে সমস্যায় পড়ছেন এবং শিল্প কারখানাগুলোতেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে মোট দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এই টার্মিনাল দুটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির জেরে সেই সরবরাহ হঠাৎ করেই ৬০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। উল্লেখ্য, দেশে প্রতিদিন মোট যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে এই আমদানি করা এলএনজি থেকে। তাই এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক গ্যাস সংকট আরও প্রকট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরবরাহ এই হ্রাসের কারণে সারা দেশের পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। অনেক এলাকায় রান্নার চুলা জ্বালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি, গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলোতেও স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের অধীনে থাকা এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকদের বাড়িতে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ত্রুটি মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কখন স্বাভাবিক সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি।