আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ সময় চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, যা জুলাই মাসের জন্য ১৯৮৩ সালের পর সর্বোচ্চ। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ১৯৮৩ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে ৪০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল; তারপর এ বছরই জুলাইয়ে এত বৃষ্টি দেখা যায়নি।

চট্টগ্রামের পাশাপাশি এর আশপাশের এলাকায়ও ভারী বর্ষণ হয়েছে। আমবাগানে ৩৪৪ মিলিমিটার এবং সীতাকুণ্ডে ১৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দুই জায়গাতেই জুলাইয়ের স্বাভাবিক বৃষ্টির তুলনায় অনেক বেশি পানি পড়েছে।

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কথায় আসলে, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৪৩ মিলিমিটার ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফেনীতে ৯১, কক্সবাজারে ৭৮, টেকনাফে ৯৪ এবং পটুয়াখালীতে ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় এ সময় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৪৬ মিলিমিটার। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক আরও জানান, আজ সারাদেশে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রামেও এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁর মতে, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর অত্যন্ত সক্রিয়। উত্তর বঙ্গোপসাগর প্রবল অবস্থায় থাকায় এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলে পানি জমতে পারে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।