কলম্বিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের ধাক্কায় আতঙ্কিত হয়ে এক পরিবারকে তাদের বাড়ি থেকে দ্রুত বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। ক্যামেরায় ধারণ করা ওই দৃশ্যে পরিবারের সদস্যরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কম্পনের মাত্রা ছিল অনেক বড় এবং এর প্রভাব পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে সেনা ও জরুরি সহায়তা দল।

স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পাঠানোর কাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হচ্ছে।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সরকার এখন অতিরিক্ত তহবিল ও অন্যান্য সম্পদ দ্রুত কাজে লাগাতে পারবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কারণ এখনো অনেক এলাকায় উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে কলম্বিয়ায় এ ধরনের ভূমিকম্প অস্বাভাবিক নয়, তবে এত বড় মাত্রার ঘটনা বিরল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম। স্থানীয়রা জানান, কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড ধরে অনুভূত হয়েছে এবং এর সময় ঘরের আসবাবপত্র পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক পরিবার ভূমিকম্প শুরু হতেই সবকিছু ফেলে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসে। ওই ভিডিওতে পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে ডেকে সতর্ক করেন এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

এখন পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলার ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে বলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।