দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বলিউডের পরিচিত মুখ অর্জুন রামপাল ও তাঁর সঙ্গিনী গ্যাব্রিয়েলা দেমেত্রিয়াদেস আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তবে এই মিলন কোনো বিলাসবহুল আয়োজনে নয়, গোয়ার আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। উত্তর গোয়ার মাপুসা এলাকার Sub-Registrar দপ্তরে তাঁরা বিয়ের নথি নিবন্ধন করিয়েছেন।

গোয়ার Uniform Civil Code অনুসারে এই দম্পতির সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন Sub-Registrar সুরজ ভেরনেকার। স্থানীয় বিধিমতে প্রথম ও দ্বিতীয় স্বাক্ষরের মাঝে ১৫ দিনের ব্যবধান রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিশেষ ছাড় নিয়ে সেই অপেক্ষার সময়সীমা অতিক্রম করে দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করেন তাঁরা। বিকেল চারটার দিকে কার্যালয়ে উপস্থিত হন এই জুটি। পরনে ছিল অত্যন্ত সাধারণ পোশাক, কোনো জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা ছিল না। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মাত্র কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সম্পর্কের পথচলা ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। প্রথমে প্রেম, তারপর পরিবার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত—সবই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে ছিল। ২০১৯ সালে তাঁদের প্রথম সন্তান এরিকের আগমন ঘটে। এর চার বছর পর, ২০২৩ সালে দ্বিতীয় সন্তান এরিভের জন্ম হয়। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটালেও আইনি কাগজপত্র নিয়ে তাঁরা তাড়াহুড়ো করেননি। ২০২৫ সালে বাগদানের খবর প্রকাশ্যে আসে, আর ২০২৬ সালে এসে অবশেষে সেই আইনি স্বীকৃতি মিলল।

বিয়ের আগে অর্জুন একাধিকবার স্পষ্ট করেছিলেন যে, তাঁদের কাছে সম্পর্কের গুরুত্ব কাগজের চেয়ে বেশি। অভিনেতা রণবীরের YouTube চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি কাগজ মাত্র। তাঁর মতে, আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পর অনেকের মনে সম্পর্কটি চিরস্থায়ী হয়ে যাওয়ার একটি ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে, যা সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করতে পারে। গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সৌন্দর্য ছিল স্বতঃস্ফূর্ততায়। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, দুজন একে অপরকে ভালো দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছেন এবং প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কটিও উপভোগ করছেন। যদিও বিয়ের বিরোধী নন বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই কাগজের স্বীকৃতিই গ্রহণ করলেন তাঁরা।

গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে সম্পর্কের আগে অর্জুনের জীবনসঙ্গিনী ছিলেন মডেল ও সাবেক Miss India মেহর জেসিয়া। ১৯৯৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল এবং প্রায় ২১ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর ২০১৯ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। সেই সংসারে দুই কন্যা—মাহিকা ও মাইরা। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও অর্জুন তাঁর মেয়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। নতুন সম্পর্ক শুরু হওয়ার পরও সন্তানদের জীবনে বাবার দায়িত্ব পালনে তিনি কোনো ত্রুটি করেননি।

প্রেম থেকে পরিবার—এই ধারাবাহিকতায় এগিয়েছে অর্জুন ও গ্যাব্রিয়েলার জীবন। বিয়ে ছাড়াই তাঁরা সন্তান ধারণ ও লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সম্পর্কের সংজ্ঞা তাঁদের কাছে সামাজিক বা আইনি অনুমোদনের চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত ছিল। নতুন সংসার ও আগের সংসারের সন্তানদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি অর্জুনের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অবশেষে গোয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ক পেল পূর্ণতা।