নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের চিতাশাল আবাসিক এলাকায় সোমবার দিবাগত রাতে গ্যাস সংযোগ দিতে গিয়ে বিস্ফোরণে চার নির্মাণ শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে ১ নম্বর গলির একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মোট ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে সংযোগ দেওয়ার চুক্তি হয়। স্যানিটারি মিস্ত্রি আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে একজন গ্যাস কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে কয়েকজন শ্রমিক রাতেই পাইপ স্থাপনের জন্য মাটি খনন শুরু করেন। কাজ করার সময় আচমকা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং গ্যাসের আগুনে চারজনই পুড়ে যান।
দগ্ধদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক শ্রমিক সবচেয়ে গুরুতর আহত হন। তার শরীরের ৬২ শতাংশ এলাকা পোড়াগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মূলত রংপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার লতাবর গ্রামের বাসিন্দা, তবে বর্তমানে ফতুল্লার দেলপাড়া বাজার এলাকায় ভাড়া থাকতেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাকি তিনজন সামান্য দগ্ধ হয়েছেন, তারা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এই বিস্ফোরণের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। ফতুল্লা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাসের লিকেজ শনাক্ত করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিন্তু তার দাবি, সেখানে নতুন করে কোনো মাটি খোঁড়ার আলামত তারা পাননি। তিনি আরও জানান, বাড়িটির গ্যাস সংযোগ বৈধ কাগজপত্রসম্পন্ন ছিল। তবে দগ্ধ শ্রমিকদের বিষয়ে কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, 'পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।'




