ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের বাকি অংশের শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে এ বিষয়ে শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল জানান, কারাগারে থাকা কয়েকজন আসামির পক্ষে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অন্যান্য আবেদনের প্রেক্ষিতেও ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ কারাগারে থাকা ২৪ জন আসামিকে হাজির করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় হাজতখানা থেকে তাদের আদালতে আনা হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়। এদিকে মামলার আরেক আসামি জামিরুল ইসলাম বাবু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামে একটি ভার্চুয়াল সভায় শেখ হাসিনাসহ কয়েকশ নেতা-কর্মী অংশ নেন। সেখানে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন। এই বক্তব্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং পলাতক আসামিদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। তখন থেকে মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।